ক্যানসার নিরাময়ে কেন আলোচনার তুঙ্গে লেমনগ্রাস?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

লেমনগ্রাস। ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ নির্যাস নিয়ে চলমান গবেষণায় ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে লেমনগ্রাস এবং ড্যান্ডেলিয়ন মূলের নির্যাস ক্যানসার কোষ ধ্বংসে কেমোথেরাপির চেয়েও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। 

মহামারি বিশেষজ্ঞ নিকোলাস হুলশার একটি গবেষণার বরাত দিয়ে জানান, লিম্ফোমা ক্যানসার আক্রান্ত ইঁদুরের ওপর লেমনগ্রাসের নির্যাস প্রয়োগ করে মাত্র ১৫ দিনে টিউমারের আকার ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এই চিকিৎসায় কোনো বিষক্রিয়া বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

বিজ্ঞানীদের মতে, লেমনগ্রাসের নির্যাস শরীরের সুস্থ কোষগুলোকে অক্ষত রেখে কেবল ক্যানসার কোষগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এটি মূলত ‘অ্যাপোপটোসিস’ বা কোষের পরিকল্পিত মৃত্যু ঘটানোর মাধ্যমে কাজ করে। এই প্রক্রিয়ায় টিউমার কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয় এবং কোষের শক্তি উৎপাদনকারী কেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া অচল হয়ে পড়ে, ফলে টিউমার কোষগুলো মারা যায়। 

লিম্ফোমা এবং লিউকেমিয়ার মতো কঠিন ক্যানসার কোষের ক্ষেত্রেও এই উদ্ভিজ্জ নির্যাস অত্যন্ত কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া ড্যান্ডেলিয়ন মূলের নির্যাস নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি কোলন ক্যানসারের টিউমার বৃদ্ধিতে ৯০ শতাংশের বেশি বাধা দিতে সক্ষম।

লেমনগ্রাসে থাকা সাইট্রাল এবং বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল উপাদান কেবল ক্যানসার নয়, বরং উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এশিয় দেশগুলোতে লেমনগ্রাস সূপ বা রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর ঔষধি গুণাগুণ এখন বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের নজর কাড়ছে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, লেমনগ্রাস চা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কার্যকর এবং এটি রক্তনালীকে শিথিল করতে সাহায্য করে। বর্তমানে প্রাক-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে থাকা এই গবেষণাগুলো উদ্ভিজ্জ এই উপাদানটির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছে।

গবেষকরা বলছেন, সাধারণ কেমোথেরাপি যেখানে ক্যানসার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষের ক্ষতি করে এবং শরীরে বিষক্রিয়া ছড়ায়, সেখানে লেমনগ্রাস বা ড্যান্ডেলিয়নের মতো সহজলভ্য উদ্ভিদ কোনো ক্ষতি ছাড়াই ক্যানসার কোষ ধ্বংস করছে। 

যদিও এখনও মানুষের ওপর এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা চূড়ান্ত পরীক্ষা বাকি রয়েছে, তবে প্রাথমিক ফলাফলগুলো ক্যানসার চিকিৎসায় এক বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখন সাশ্রয়ী এবং বিষক্রিয়ামুক্ত এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলোকে মূলধারার ক্যানসার চিকিৎসায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছেন।

ইরানের অস্থিরতা কতটা বদলে দেবে বিশ্ব রাজনীতির চিত্র?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে ৯ কোটি মানুষের দেশটিতে রাজধানী তেহরানসহ কয়েক ডজন শহরে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন ও শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা দমে না গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান চাইছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিশ্বনেতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন উদ্বেগের সঙ্গে তেহরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। সিআইএ’র সাবেক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম উশার এই সময়টিকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

বিক্ষোভের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মুদ্রার মানের চরম অবনতি। মার্কিন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৫০০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ইন্টারনেট ও টেলিফোন নেটওয়ার্ক প্রায় বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইলন মাস্কের স্টারলিংক পরিষেবার মাধ্যমে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ চালুর বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ইরানের এই টালমাটাল অবস্থা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ এবং ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর পর ইরানকেও হারালে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব মারাত্মকভাবে খর্ব হবে। 

অন্যদিকে জ্বালানি বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যেই ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৩ ডলার ছাড়িয়েছে। ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।