গল্পের নাম:একজন সৎ কাঠুরিয়া ও আল্লাহর রহমত

অনেক আগে এক গ্রামে এক অতি দরিদ্র কিন্তু পরহেজগার কাঠুরিয়া বাস করতেন। তিনি প্রতিদিন বনে যেতেন কাঠ কাটতে এবং তা বিক্রি করে যা পেতেন, তা দিয়ে তাঁর সংসার চালাতেন। অভাব থাকলেও তিনি কখনো মিথ্যে বলতেন না বা কারও সাথে প্রতারণা করতেন না।

একদিন কাঠ কাটার সময় ভুলবশত তাঁর কুড়ালটি পাশের একটি গভীর নদীতে পড়ে গেল। কুড়ালটি ছিল তাঁর আয়ের একমাত্র মাধ্যম। কুড়ালটি হারিয়ে তিনি খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং নদীর তীরে বসে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লাগলেন, “হে আল্লাহ, তুমিই আমার একমাত্র সহায়। আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করো।”

হঠাৎ একজন বৃদ্ধ লোক (যিনি আসলে একজন ফেরেশতা ছিলেন মানুষের বেশে) তাঁর সামনে হাজির হলেন। বৃদ্ধটি জিজ্ঞেস করলেন, “বাবা, তুমি কাঁদছো কেন?” কাঠুরিয়া সব খুলে বললেন।

বৃদ্ধটি তখন নদীতে ডুব দিলেন এবং একটি সোনার কুড়াল তুলে এনে বললেন, “এটা কি তোমার কুড়াল?” কাঠুরিয়া বললেন, “না, এটা আমার নয়।”

বৃদ্ধটি আবার ডুব দিলেন এবং একটি রুপার কুড়াল নিয়ে এলেন। কাঠুরিয়া আবারও মাথা নেড়ে বললেন, “না, এটাও আমার নয়।”

কাঠুরিয়ার এমন সততা দেখে বৃদ্ধটি মুগ্ধ হলেন। তিনি কাঠুরিয়াকে বললেন, “তোমার সততার পুরস্কার হিসেবে আমি তোমাকে এই সোনা এবং রুপার কুড়াল দুটিও উপহার দিচ্ছি। আল্লাহ তোমার ওপর খুশি হয়েছেন।”

কাঠুরিয়া বাড়ি ফিরে অভাবমুক্ত হলেন এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন।

গল্পের শিক্ষা:

  • সততা সর্বোত্তম পন্থা: সাময়িক কষ্ট হলেও সততা মানুষকে স্থায়ী সম্মান ও সাফল্য দেয়।
  • আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল): বিপদে পড়লে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সাহায্য চাইলে তিনি অবশ্যই পথ দেখিয়ে দেন।
  • লোভ না করা: অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ না করলে আল্লাহ নিজ গুণে নেয়ামত বাড়িয়ে দেন।