হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রহঃ) ও এক ইহুদির ঘটনা

হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রহঃ) ও এক ইহুদির ঘটনা

হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রহ) এর সাথে জনৈক ইহুদীর খুবই বন্ধুত্ব ছিল। একদিন ইহুদি তার নিকট এসে কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) বললেন, কোথায় যাচ্ছ।

ইহুদি বলল, আজ আমাদের একটি সমাবেশ আছে, সব ইহুদি সেখানে উপস্থিত হবে। আমিও সেখানে যাবো।

জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) বললেন, আমাকে তোমার সাথে নিয়ে চলো।

ইহুদি বলল আপনি সেখানে যেতে পারবেন না সেখানে কোন মুসলিমকে দেখলেই হত্যা করে ফেলবে। তিনি বললেন আমি তোমাদের বেশ ধরে যাব।

তার সাথে সেখানে গিয়ে দেখেন একটি আসন তৈরি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর একজন বৃদ্ধাকে সেই আসনে বসানো হলো। এই বৃদ্ধা প্রতিবছর এখানে বসে জনতাকে একটামাত্র উপদেশ দিতেন। তারা সবাই সেই উপদেশ পালন করত।

কিন্তু এইবার সে চুপ করে বসে রইল। ভক্তরা বলে উঠলো! আপনি আজ কিছুই বলছেন না কেন? আমরা যে আপনার বাণী শোনার জন্য অধীর আগ্রহে আছি। বৃদ্ধ বললো, এই মজলিসে একজন মুসলমান আছে। তাই আমি কোন কথা বলতে পারছিনা। ইহুদি বলে উঠলো কে সেই মুসলিম আমরা তাকে হত্যা করব। বৃদ্ধা বলল না! খবরদার তাঁকে হত্যা করবে না। ওই সেই ব্যক্তি তাকে আমার নিকট নিয়ে আসো।

জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) কে নিয়ে আসা হল। বৃদ্ধ বললো আপনি কেন এখানে আসলেন। তিনি বললেন তামাশা দেখার জন্য এসেছি। বৃদ্ধ বললো আপনি যখন এসেছেন এখন আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিন। তিনি বললেন আমি যদি তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি তাহলে তুমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে? বৃদ্ধা বললো আমি ওয়াদা করলাম, আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবো।

জুনায়েদ বললেন, প্রশ্নকারী বড় না উত্তরদাতা বড়? সে বলল উত্তরদাতা বড়। তখন তিনি বললেন তুমি প্রশ্নকারী তুমি আসন হতে নেমে আসো আমি ওই আসনে বসে উত্তর দিব। বৃদ্ধা নেমে আসলো তিনি গিয়ে সেই আসনে বসলেন।

আচ্ছা প্রশ্ন করো। বৃদ্ধা বললো

এক নাম্বার প্রশ্ন আপনারা বলে থাকেন বেহেশতে এত আহার করা হবে তবু পায়খানা-প্রস্রাবের প্রয়োজন হবে না।

দুই নাম্বার প্রশ্ন: বেহেশতে এমন একটি বৃক্ষ থাকবে যার শাখা-প্রশাখা বেহেশতের প্রতিটি ঘরের উপর বিস্তার করবে।

তিন নাম্বার প্রশ্ন: বেহেশতের নিয়ামত যতই খাওয়া হবে তার ঘাটতি হবে না এগুলি তো অসম্ভব কথা।

এক নাম্বার প্রশ্নের উত্তর: সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে তখন সে মায়ের রক্ত আহার করে কিন্তু তার পায়খানা-প্রস্রাবের প্রয়োজন হয় না।

দ্বিতীয় নাম্বার প্রশ্নের উত্তর: পৃথিবীতে সূর্য মাত্র একটা কিন্তু তার আলো সকল ঘরের উপরে পরে।

তৃতীয় নাম্বার প্রশ্নের উত্তর হলো কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করে, শ্রবণ করে এবং তার দাঁড়াও উপকার পায়, কিন্তু তার স্বাদ ও মাধুর্য কমে না। অতঃপর বললেন আমি তোমার তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। এখন তুমি আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। বৃদ্ধ বললো, প্রশ্ন করুন। জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) বললেন, বেহেশতের দরজার উপর কি লেখা রয়েছে?

বৃদ্ধা শুনে চুপ করে রইলো। সব ঈহুদীগণ বলে উঠলো আপনি আমাদের ধর্মীয় নেতা আপনার তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তার একটি প্রশ্নের উত্তর আপনি কেন দিচ্ছেন না! বৃদ্ধ বললো আমি যে উত্তর দেবো তোমরা যদি তা মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করো তবে আমি উত্তর দিব। তারা সকলেই অঙ্গীকার করল আমরা অবশ্যই মেনে নেব।

বৃদ্ধা বললো বেহেশতের দরজার উপর লেখা আছে, ”লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ” এই কথা শুনে সকল ইহুদি কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেল এবং ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করল। সুবাহানাল্লাহ

ইসলামী গল্প ও শিক্ষা

চালাক গাধা ও তার বোঝার নীতি গল্প:-

একদা এক দূর গ্রামের ধারে একটি গাধা বাস করত। গাধাটি দেখতে একটু বোকাসোকা হলেও ছিল ভীষণ পরিশ্রমী। গ্রামের এক ব্যবসায়ী প্রতিদিন বাজারে মাল নিয়ে যাওয়ার জন্য এই গাধাটিকেই ব্যবহার করত।

ব্যবসায়ী প্রায়ই চিনি কিনে গাধার পিঠে বড় বড় বস্তা বেঁধে দূরের বাজারে নিয়ে যেত। গাধাটি নীরবে কষ্ট সহ্য করে সেই বোঝা বহন করত।

🧺 চিনির বোঝা ও নদীর ঘটনা

একদিন সকালে ব্যবসায়ী গাধার পিঠে আগের চেয়ে অনেক বেশি চিনির বস্তা চাপিয়ে দিল। বোঝা এত ভারী ছিল যে গাধার হাঁটতেই কষ্ট হচ্ছিল। পথে হাঁটতে হাঁটতে তারা একটি নদীর কাছে পৌঁছাল।

গাধার তখন খুব পিপাসা লেগেছিল। পানি খাওয়ার জন্য নদীর ধারে নামতেই হঠাৎ সে পিছলে পড়ে গেল

ঢপাং!

গাধা সোজা নদীর পানিতে পড়ে গেল। কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়াতেই সে টের পেল— তার পিঠের বোঝা অনেক হালকা হয়ে গেছে!

কারণ, চিনির বস্তা পানিতে ভিজে গলে গিয়েছিল। গাধা মনে মনে খুব খুশি হলো।

সে ভাবল,

“আরে বাহ! নদীতে পড়লে তো বোঝা হালকা হয়ে যায়! এটা তো দারুণ এক কৌশল!”

🧠 চালাকি শুরু

এরপর থেকে যখনই গাধার পিঠে চিনির বোঝা বাঁধা হতো, সে ইচ্ছে করেই নদীর কাছে গিয়ে হোঁচট খেত। পানিতে পড়লেই চিনি গলে যেত, আর বোঝা হালকা হয়ে যেত।

গাধা ভাবতে লাগল, সে খুব বুদ্ধিমান হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ী বিষয়টা লক্ষ করলেও কিছু বলত না। সে চুপচাপ সব দেখছিল।

☁️ তুলার বোঝা ও বড় ভুল

কিছুদিন পর ব্যবসায়ী অন্য বাজার থেকে তুলা কিনে আনল। এবার সে তুলার বড় বড় বস্তা গাধার পিঠে চাপাল। তুলা দেখতে বড় হলেও আসলে খুব হালকা—গাধার বিশেষ কষ্ট হচ্ছিল না।

কিন্তু নদী দেখেই গাধা আবার খুশি হয়ে উঠল।

সে মনে মনে ভাবল,

“এইবারও নদীতে পড়লে বোঝা আরও হালকা হয়ে যাবে!”

ভাবনা অনুযায়ী কাজ—গাধা নদীর মাঝখানে গিয়ে ইচ্ছে করে পড়ে গেল।

কিন্তু এবার ঘটল ভয়ংকর বিপরীত ঘটনা।

তুলা পানিতে ভিজে গেল, আর ভিজতেই তুলা হয়ে উঠল অনেক বেশি ভারী।

গাধা যতই উঠে দাঁড়াতে চাইলো, বোঝা ততই ভারী হতে লাগল।

পিঠে যেন পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে! গাধা অসহ্য কষ্টে পড়ল।

তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা!

📿 গল্পের শিক্ষা (ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিতে)

এই গল্প থেকে আমরা একটি গভীর শিক্ষা পাই—

গাধা বুঝতে পারেনি কেন চিনির বোঝা পানিতে হালকা হয় আর কেন তুলার বোঝা ভারী হয়। সে না বুঝেই আগের অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে চালাকি করতে গিয়েছিল।

ঠিক তেমনি আমরাও মানুষ হিসেবে অনেক সময় অল্প জ্ঞান নিয়ে বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেলি। অহংকার, লোভ কিংবা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আমাদের ভুল পথে ঠেলে দেয়।

📖 ইসলাম আমাদের শেখায়—

জ্ঞান ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

👉 যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা নেই, সে বিষয়ে ঝুঁকি নেবেন না।

👉 আর ঝুঁকি নিতে হলে জেনে-বুঝেই নিন।

👉 বুদ্ধির অহংকার অনেক সময় মানুষকে এমন বিপদে ফেলে, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন এবং অহংকার থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

আরও নিয়মিত ইসলামিক গল্প, দীনি শিক্ষা এবং দিনের কথা জানতে আমাদের ফেসবুকে অ্যাড থাকুন। আমরা প্রতিদিন নতুন কিছু শেয়ার করি।

ইসলামী গল্প ও শিক্ষা

গল্পের নাম:একজন সৎ কাঠুরিয়া ও আল্লাহর রহমত

অনেক আগে এক গ্রামে এক অতি দরিদ্র কিন্তু পরহেজগার কাঠুরিয়া বাস করতেন। তিনি প্রতিদিন বনে যেতেন কাঠ কাটতে এবং তা বিক্রি করে যা পেতেন, তা দিয়ে তাঁর সংসার চালাতেন। অভাব থাকলেও তিনি কখনো মিথ্যে বলতেন না বা কারও সাথে প্রতারণা করতেন না।

একদিন কাঠ কাটার সময় ভুলবশত তাঁর কুড়ালটি পাশের একটি গভীর নদীতে পড়ে গেল। কুড়ালটি ছিল তাঁর আয়ের একমাত্র মাধ্যম। কুড়ালটি হারিয়ে তিনি খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং নদীর তীরে বসে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লাগলেন, “হে আল্লাহ, তুমিই আমার একমাত্র সহায়। আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করো।”

হঠাৎ একজন বৃদ্ধ লোক (যিনি আসলে একজন ফেরেশতা ছিলেন মানুষের বেশে) তাঁর সামনে হাজির হলেন। বৃদ্ধটি জিজ্ঞেস করলেন, “বাবা, তুমি কাঁদছো কেন?” কাঠুরিয়া সব খুলে বললেন।

বৃদ্ধটি তখন নদীতে ডুব দিলেন এবং একটি সোনার কুড়াল তুলে এনে বললেন, “এটা কি তোমার কুড়াল?” কাঠুরিয়া বললেন, “না, এটা আমার নয়।”

বৃদ্ধটি আবার ডুব দিলেন এবং একটি রুপার কুড়াল নিয়ে এলেন। কাঠুরিয়া আবারও মাথা নেড়ে বললেন, “না, এটাও আমার নয়।”

কাঠুরিয়ার এমন সততা দেখে বৃদ্ধটি মুগ্ধ হলেন। তিনি কাঠুরিয়াকে বললেন, “তোমার সততার পুরস্কার হিসেবে আমি তোমাকে এই সোনা এবং রুপার কুড়াল দুটিও উপহার দিচ্ছি। আল্লাহ তোমার ওপর খুশি হয়েছেন।”

কাঠুরিয়া বাড়ি ফিরে অভাবমুক্ত হলেন এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন।

গল্পের শিক্ষা:

  • সততা সর্বোত্তম পন্থা: সাময়িক কষ্ট হলেও সততা মানুষকে স্থায়ী সম্মান ও সাফল্য দেয়।
  • আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল): বিপদে পড়লে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সাহায্য চাইলে তিনি অবশ্যই পথ দেখিয়ে দেন।
  • লোভ না করা: অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ না করলে আল্লাহ নিজ গুণে নেয়ামত বাড়িয়ে দেন।

Batters’ dip in form deepens Tigers’ worries

Bangladesh batters rarely enjoy prolonged purple patches. Even those who appear in good touch often lose form ahead of major tournaments — a concern long shared by fans and experts and recently voiced by the national team’s specialised batting coach Mohammad Ashraful during the T20I series against the West Indies last October.

HomeeconomyBatters’ dip in form deepens Tigers’ worries

Batters’ dip in form deepens Tigers’ worries

HeathJanuary 11, 2026

Tanzid Tamim.jpg

Bangladesh batters rarely enjoy prolonged purple patches. Even those who appear in good touch often lose form ahead of major tournaments — a concern long shared by fans and experts and recently voiced by the national team’s specialised batting coach Mohammad Ashraful during the T20I series against the West Indies last October.

That fear is now being reflected in the ongoing Bangladesh Premier League (BPL). After 20 of the scheduled 34 matches, most Bangladeshi batters have failed to make a meaningful impact, while bowlers have largely carried the show — an alarming trend with the ICC T20 World Cup scheduled to begin on February 7 in India and Sri Lanka.

The uncertainty surrounding Bangladesh’s participation in the World Cup has only added to the unease. Several players have reportedly avoided the media in recent days, unwilling to face uncomfortable questions about their form, the Mustafizur Rahman issue, and the continuing row between the Bangladesh Cricket Board (BCB) and the International Cricket Council (ICC).

Yet the scorecards tell a clearer story. Other than Sylhet Titans opener Parvez Hossain Emon, who is second on the tournament’s run-getters’ list with 236 runs in eight innings, including two half-centuries, none of the other batters from Bangladesh’s World Cup squad feature in the top 10.

Bangladesh captain Litton Das is next among the squad members with 129 runs from six matches for Rangpur Riders. Dhaka Capitals’ Shamim Hossain, one of the options for the Tigers’ fragile middle order, has scored 114 runs in five innings — 81 of which came in a single knock against Sylhet that still ended in defeat.

Rangpur’s Tawhid Hridoy, who began with a fifty against Rajshahi Warriors in the second match, has struggled since, managing 106 runs in six games. Rajshahi opener Tanzid Tamim has 87 runs from six matches, failing to convert starts, while Saif Hassan has scored just 48 runs in five matches and was even rested by Dhaka after four games. Rangpur skipper Nurul Hasan has only 20 runs from four innings, and Dhaka all-rounder Saifuddin 41 from three — figures well below expectations.