আলোনসোকে যেসব কারণে ছাঁটাই করল রিয়াল মাদ্রিদ

‘আজ যে কোচকে নিয়ে সমর্থকেরা উল্লাস করে তার অমরত্ব চাইছে, পরের রোববার সেই একই কোচকেই তারা মরতে বলবে’—ফুটবল কোচদের চাকরি নিয়ে ‘সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো’ বইয়ে আক্ষেপ করে কথাটা লিখেছিলেন উরুগুয়ের বিখ্যাত লেখক এদুয়ার্দো গালিয়ানো। বলা হয়, কোচদের বাক্স–পেটরা গোছানোই থাকে, কে জানে কখন আবার বিদায়ঘণ্টা বাজে! কোচের চাকরিতে নির্মম এই বাস্তবতা গতকাল রাতে হয়তো কঠিনভাবে উপলব্ধি করেছেন জাবি আলোনসো।

‘এলাম, দেখলাম এবং জয় করলাম’ ভঙ্গিতে কোচিং দুনিয়ায় জাবির আবির্ভাব, মাত্র সাত মাসের মাথায় বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব থেকে ছাঁটাই হয়ে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখলেন তিনি। বুঝলেন, কোচের চাকরি মানে কাঁটার মুকুট পরে ডাগআউটে দাঁড়ানোর বিয়োগান্ত এক গল্পও, যেখানে শেষটা বেশির ভাগ সময় হতাশা মোড়ানোই হয়। প্রশ্ন হলো, বায়ার লেভারকুসেনের মতো দলকে ইতিহাস গড়ে যিনি শিরোপা জিতিয়েছিলেন, তিনি রিয়ালে এসে কোথায় ভুল করলেন? যেখানে পরিবেশটা ছিল তাঁর কাছে হাতে তালুর মতো চেনা। নাকি খুব দ্রুতই তাঁকে ছাঁটাই করে অন্যায় করেছে রিয়াল?খেলোয়াড় হিসেবে আক্ষেপ বলে কোনো শব্দ নেই আলোনসোর প্রোফাইলে। বিশ্বকাপ, ইউরো, চ্যাম্পিয়নস লিগসহ সম্ভাব্য যা যা জিততে পারতেন সবই জিতেছেন তিনি। অবসর নিয়েছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের একজন হিসেবে। এরপর নেমেছেন কোচিংয়ে। রিয়াল সোসিয়েদাদের বি দল দিয়ে শুরু করে ২০২২ সালে দায়িত্ব নেন লেভারকুসেনের।পরের গল্পটা রীতিমতো রূপকথা! আলোনসোর লেভারকুসেনের দায়িত্ব নেওয়ার সময়টাও একেবারে পক্ষে ছিল না। সে সময় জেরার্দো সিওয়ানের অধীন ৮ ম্যাচের মাত্র ১টি জিতে অবনমনের শঙ্কায় কাঁপছিল বুন্দেসলিগার ক্লাবটি। এরপরও চ্যালেঞ্জটা নেন আলোনসো। অবনমন অঞ্চল থেকে লেভারকুসেনকে টেনে তোলেন লিগ টেবিলে ৬ নম্বরে। শুরুতে অনেকে এ অর্জনকে আকস্মিক চমক হিসেবে দেখলেও পরের মৌসুমে যা ঘটেছে, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।

কখনো ট্রফি না জেতা লেভারকুসেন অপরাজিত থেকে বুন্দেসলিগার শিরোপাসহ ঘরোয়া ট্রেবল জেতে। ইউরোপা লিগে হার মানতে হয় ফাইনালে। সব মিলিয়ে বিস্ময়কর এক মৌসুম পার করেছিল আলোনসোর লেভারকুসেন। পরের মৌসুমে অবশ্য আর কোনো সাফল্য আসেনি। আর মৌসুম শেষে আলোনসো প্রত্যাশিতভাবে যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে, যেখানে বিদায়ী কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।রিয়ালে শুরুতেই আলোনসো বিতর্কে আসেন লুকা মদরিচকে বাদ দিয়ে। যেভাবে কিংবদন্তি মদরিচকে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল, তা অনেকের দৃষ্টিতে অন্যায়। এরপরও সবার দৃষ্টি ছিল মাঠের পারফরম্যান্সে। পরিসংখ্যান বলছে, আলোনসোর অধীন রিয়ালের পারফরম্যান্স একেবারে খারাপ ছিল না। ৩৪ ম্যাচে, ২৪ জয়, ৬ হার ও ৪ ড্র।। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বার্সেলোনায় ৩৪ ম্যাচ পর কোচ হান্সি ফ্লিকের পারফরম্যান্সও ছিল একই রকম। ফ্লিক পরবর্তী সময়ে ঘরোয়া ‘ট্রেবল’সহ চারটি শিরোপা জিতেছেন। রিয়াল কি তবে একটু তাড়াহুড়াই করে বসল?এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া কঠিন। কারণ, রিয়ালে আলোনসোর সময়টা ছিল বেশ ধোঁয়াশাপূর্ণ। ম্যাচের ফলে যা দেখা যাচ্ছে এবং ফলের বাইরের চিত্রটা মোটেই এক রকম নয়। লেভারকুসেনে আলোনসো নিজের কোচিং–দর্শনে বাজিমাত করেছিলেন, রিয়ালে যেটা প্রায় ছিলই না। ম্যাচ জেতার জন্য আলোনসোকে নির্ভর করতে হয়েছে বিশেষ কোনো মুহূর্ত কিংবা বিশেষ কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত দক্ষতায়। আরও সহজ করে বললে কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর।

আলোনসোর পুরো সময়টাতে রিয়াল স্বরূপে খেলতে পেরেছেন শুধু এমবাপ্পেই। রদ্রিগো কিংবা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ বাকি তারকাদের প্রায় সবাই ঢাকা ছিলেন নিজেদের ছায়াতেই। এই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নিজেদের সেরাটা বের করে আনার মুনশিয়ানা দেখাতে পারেননি আলোনসো। ফলে দলগত ঐক্য ও কৌশলগত দর্শন সেভাবে ফুটেও ওঠেনি। বিশেষত ‘জাবিবল’ নামের যে কোচিং–দর্শনকে আলোনসো পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, রিয়ালে তা শুধু খাতা–কলমেই রয়ে যায়। গত সাত মাসে রিয়ালের আলোনসোর কৌশল বেশ রহস্যময় এক ঘটনা হয়েই থাকবে।

এই নামগুলোই বড় দলের বিপক্ষে রিয়ালের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। পাশাপাপশি জয়ের পরিসংখ্যান যে সঠিক বার্তা দিচ্ছে না, তা–ও এখানে একরকম স্পষ্ট। বড় দলগুলোর বিপক্ষে রিয়ালের এমন ব্যর্থতার মূল কারণগুলোর অন্যতম নড়বড়ে রক্ষণ। আলোনসোর আক্রমণাত্মক ও হাইলাইন ডিফেন্সের ফুটবল বড় দলগুলোর বিপক্ষে বারবার ঝুঁকিতে ফেলেছে দলকে। এ ছাড়া প্রতি–আক্রমণেও বেশ ভুগেছে রিয়াল।

মাঠের এলোমেলো কৌশল ও পরিকল্পনার বাইরে রিয়ালের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোনসোর বোঝাপড়ার ঘাটতিও ছিল দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে আলোনসোর বিরোধ রিয়ালকে পুরো সময়ে ভুগিয়েছে। শুধু ভিনিসিয়ুসই নন, রিয়ালের বেশ কজন খেলোয়াড় আলোনসোর ওপর খুশি ছিলেন এমনকি অনেকেই ছাঁটাইয়ের পর আলোনসোকে বিদায়ী বার্তা পর্যন্ত দেননি। ক্লাব ছাড়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়াতেও বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন আলোনসো। স্পেনের রেডিও লা কাদেনা সের জানিয়েছে, আলোনসো ছাঁটাই হওয়ার পর বলেছেন, ‘আপনি খেলোয়াড়দের হাতে এত ক্ষমতা দিতে পারেন না। ক্লাব যদি সব সময় খেলোয়াড়দের পক্ষ নেয়, তবে ড্রেসিংরুম পরিচালনা করা কঠিন।’ এ ছাড়া রিয়ালে নিজের গড়া দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে ব্যর্থ হন আলোনসো। এটিও মাঠের লড়াইয়ে রিয়ালকে বেশ ভুগিয়েছে।নাজাবির ছাঁটাই হওয়ার আরেকটি বড় কারণ, দলকে ভবিষ্যৎ দেখাতে না পারা। মৌসুমের প্রথম শিরোপা লড়াইয়ে রোববার হেরে গেছে রিয়াল। গত মৌসুমে সব হারানো রিয়ালের জন্য এটি বড় ধরনের ব্যর্থতা। এমনকি সামনে থাকা ট্রফিগুলোও যে রিয়াল জিততে পারে, সে আশাও দেখাতে পারেননি তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মোমেন্টাম হারানো নিশ্চিতভাবেই রিয়াল কর্তৃপক্ষকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল, যার শেষটা হয়েছে ক্লাব থেকে ছাঁটাইয়ের মধ্য দিয়ে।

আলোনসোর কোচিং ক্যারিয়ার অবশ্য কেবলই শুরু হয়েছে। আর এই পেশায় হুটহাট ছাঁটাইয়ের ঘটনা খুব অস্বাভাবিক কিছুও নয়। তবে যাঁরা আলোনসোর হাত ধরে রিয়ালে বিপ্লব দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁদের রিয়াল–আলোনসো জুটির পরিণতিটা হতাশাজনক এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বাছাইকৃত লেখা

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান!
না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।
জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,
ওরে উথলি উঠেছে বারি,
ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।
থর থর করি কাঁপিছে ভূধর,
শিলা রাশি রাশি পড়িছে খসে,
ফুলিয়া ফুলিয়া ফেনিল সলিল

আমেরিকার হুমকি, ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

ইরানে অর্থনৈতিক সংকট, দেশটির মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা কর্মসূচি দিয়ে দেশটিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সহিংস বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়, মসজিদসহ নানা স্থানে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালায়।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআরএনজিও) গতকাল এ তথ্য জানায়। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ১৮ বছরের কম বয়সি। আন্দোলন শুরুর পর থেকে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিহত হন নিরাপত্তাবাহিনীর শতাধিক সদস্য।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে, পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। এর মধ্যে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ জনতা। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও প্রেসটিভির।

গতকাল সোমবার সরকারের ডাকে রাজধানী তেহরানসহ বেশিরভাগ প্রদেশে স্থানীয় সময় দুপুরে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। কিছু প্রদেশে মানুষ সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নামেন সকাল থেকেই। কর্মকর্তারা দেশব্যাপী জনতার এই সমর্থনকে শত্রুর ষড়যন্ত্রের মুখে ঐক্য ও সংহতির অকাট্য প্রমাণ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

উত্তেজনার মধ্যে তেহরান-ওয়াশিংটন বাগ্‌যুদ্ধ থেমে নেই। ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গতকাল তেহরানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিদেশি কূটনীতিকদের বলেন, সপ্তাহান্তে সহিংসতা বেড়েছে কিন্তু পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, দেশব্যাপী বিক্ষোভ সহিংস ও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করতে পারেন।

কঠিন এই পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, সংলাপের জন্যও প্রস্তুত।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কয়েকদিন ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করা হয় ইরানজুড়ে। ধীরে ধীরে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন আরাগচি। তিনি জানান, ইন্টারনেট পরিষেবা শিগগিরই চালু করা হবে এবং সরকার নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে অগ্রগতি করছে।

বিক্ষোভের তৃতীয় সপ্তাহে এসে ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। সম্প্রতি তিনি তেহরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, তার হাতে খুব শক্তিশালী বিকল্প রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগের পথ এখনো খোলা আছে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর যেন বলপ্রয়োগ করা না হয় সেজন্য জার্মানি, ফিনল্যান্ড, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ ইরানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলছে, যদি প্রয়োজন হয় ইরানের ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

ইইউর মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের পর আমরা নতুন, আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত।

বর্তমানে যদিও পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ তেহরানের ওপর নানা অজুহাতে শত শত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।

তীব্র বিক্ষোভে বিপর্যস্ত ইরানের সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব একটা সমর্থন পাচ্ছে না। এ অবস্থায় তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে, তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, আমরা সর্বদা অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছি এবং ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করেছি যে সমস্ত জাতির সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত হওয়া উচিত। আমরা সকল পক্ষকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আরও বেশি কিছু করার আহ্বান জানাই।

বিক্ষোভে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি। তাদের তথ্য অনুসারে, ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ১৮৬টি শহর এবং ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে ৪৯৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। এছাড়া কমপক্ষে ১০ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাহসানের বিচ্ছেদ, ক্যারিয়ার নিয়ে যে প্রশ্নের উত্তর মিলছে না

দেশের গুটিকয় তারকার ফেসবুকে অনুসারী কোটির মতো। এর মধ্যে একজন ছিলেন তাহসান খান। তিনি কাজের বাইরে ফেসবুক পেজ কখনোই ব্যবহার করতেন না। গত বছর সেপ্টেম্বরে সেই ফেসবুক পেজ ও ইনস্টাগ্রাম হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেন। এটা নিয়ে ভক্তদের নানা মত। অনেকেই বলছেন, তাহসান বিচ্ছেদের কারণেই ফেসবুক থেকে দূরে সরে যান। এটা নিয়ে অবশ্য তাহসান কখনোই কোনো বক্তব্য দেননি।

কেন ফেসবুক ছেড়েছিলেন

তাহসান খান দীর্ঘদিন ধরেই ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে দোটানায় ছিলেন। তাঁকে গত দুই বছরে খুব একটা সরব দেখা যায়নি। কখনো মাসে দু–একটি করে স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে। দিয়েছেন কাজের খবর। অবশেষে গত বছর তিনি একেবারেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে যান। এ সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন তো ফেসবুক ব্যবহার করলাম। এটা এমন কিছু না ব্যবহার করতেই হবে। এখন মনে হচ্ছে, এটা হয়তো আমার জন্য ভালো কিছু না। আমি হয়তো দু–একটি কারণে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারতাম। বিভিন্ন সময় ফেসবুকে আমাদের নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়, মিথ্যা ঘটনা ছড়ায়। এর আগে এক হাসপাতালে গেলাম একজন অভিনন্দন জানাচ্ছেন, আমি নাকি বাবা হয়েছি। মিথ্যা, ভুয়া এগুলো নিয়ে হয়তো আমি ফেসবুকে লিখতে পারতাম, ঘটনা সত্য না, এটা আমি না। কিন্তু এটা তো আমার কাজ নয়। অনেক সময় এটা একধরনের মেন্টাল ট্রমার মধ্যে আমাদের নিয়ে যায়।’

তাহসান বললেন, ‘আমাদের বিচ্ছেদের ঘটনা সত্য’

সর্বশেষ ফেসবুক পোস্ট
গত বছর ছিল তাহসান খানের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাঁর ক্যারিয়ার ২৫ বছরে পা দেয়। সংগীতজীবনের বিশেষ মুহূর্ত উদ্‌যাপন করতে অস্ট্রেলিয়া ট্যুর দেন। এ খবর তিনি ফেসবুকে জানান। এটাই ছিল তাঁর শেষ ফেসবুক পোস্ট। এর সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের পরে কোনো অভিযোগ, অভিমান ছিল কি না, কেন গান ছেড়েছিলেন, সেটা অবশ্য তাহসান কখনোই প্রকাশ করেননি। গত বছর সেপ্টেম্বরে দেশটির পাঁচটি শহরে কনসার্ট করে ‘তাহসান অ্যান্ড দ্য ব্যান্ড’। এর মধ্যেই সেপ্টেম্বরে তিনি একটি কনসার্টে গিয়ে হঠাৎ করে ভক্তদের মধ্যে ঘোষণা দেন এই ট্যুরই হবে তাঁর সংগীত ক্যারিয়ারের শেষ স্মৃতি। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর গান গাওয়ার ফাঁকে তাহসান বলেন, ‘অনেক জায়গায় লেখা হচ্ছে, এটা আমার শেষ কনসার্ট। শেষ কনসার্ট না, শেষ ট্যুর। আস্তে আস্তে সংগীতজীবনের হয়তো ইতি টানব। এটা ন্যাচারাল।’

গান ছাড়া সিদ্ধান্ত কি হঠাৎ
গান ছাড়ার ঘোষণার আট মাস আগের কথা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর। সে সময়ে আলোচনায় আসে তাহসানের নতুন গান ‘ভুলে যাব’। প্রথমবারের মতো হলিউডে গানের শুটিং করেছিলেন এই গায়ক ও অভিনেতা। পাশাপাশি ১২টি নতুন গান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বাংলা গান নিয়ে আশার কথা জানিয়ে তাহসান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমরা বাংলা নিয়ে একটা গণ্ডির মধ্যেই রয়ে গেছি। আমরা বিশাল গানের দর্শক ধরতে পারছি না। লাতিন আমেরিকা, কোরিয়াসহ অনেক দেশ তাদের গানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে। শিল্পী হিসেবে আমরাও চাইলে বাংলা গানকে ছড়িয়ে দিতে পারি। সেই দায়বদ্ধতা নিয়েই এখন কাজ করছি।’ বাংলা গান নিয়ে যখন এগিয়ে যাওয়া কথা, তার মধ্যেই হঠাৎ গান ছেড়ে দেওয়া নিয়েও সেই সময় প্রশ্ন ওঠে। সেই সময় ভক্তরা এমন মন্তব্যও করেন, ‘কোনো অভিমানেই তাহসান গান থেকে দূরে রয়েছেন।’ ভক্তরা এমনটাও প্রত্যাশা করেছিলেন, ‘হয়তো তিনি অভিমান ভুলে আবার গানে ফিরবেন।’

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য স্কোয়াডে যারা থাকছেন

বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সম্ভাব্য ২৬ সদস্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস। তাদের ভাষ্য, এই তালিকাটি এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির বর্তমান ভাবনা ও পরিকল্পনার প্রতিফলন এতে স্পষ্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কোয়াডের বড় অংশ আগের বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়দের নিয়েই গঠিত হতে পারে। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন কয়েকজন তরুণ ফুটবলার। রিপোর্টে গোলরক্ষক বিভাগে প্রথম পছন্দ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। জেরোনিমো রুলি থাকতে পারেন দ্বিতীয় গোল রক্ষক হিসেবে। ডিফেন্ডারদের মধ্যে রয়েছেন নাহুয়েল মোলিনা, গঞ্জালো মন্টিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্ডি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং নিকোলাস টাগলিয়াফিকো। মিডফিল্ডের সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছে রদ্রিগো ডি পল, লেয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং জিওভানি লো সেলসো। আক্রমণভাগের নিশ্চয়ই লিওনেল মেসির বিকল্প থাকবে না। তার সঙ্গে থাকতে পারেন লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গঞ্জালেজ এবং থিয়াগো আলমাদা। এই খেলোয়াড়দের অনেকেই তালিকায় প্রায় নিশ্চিত বলে উল্লেখ করেছে টিওয়াইসি স্পোর্টস। এদিকে, কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা স্কোয়াডের শেষ কয়েকটি জায়গার জন্য লড়াই করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওয়াল্টার বেনিতেজ, হুয়ান ফয়থ, লিওনার্দো বালের্দি, ফাকুন্দো মেদিনা, মার্কোস আকুনিয়া, ভালেন্তিন বার্কো ও এক্সেকিয়েল প্যালাসিওস। এ ছাড়া কয়েকজন তরুণ ফুটবলারকেও নজরে রাখা হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়, ইনজুরি, ফর্ম এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি নির্ধারিত সময়েই।