আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে জাহান্নামবাসীদের খাদ্য হিসেবে এক ভয়ংকর গাছের উল্লেখ করেছেন, যার নাম জাক্কুম।
এর বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অর্থাৎ ‘এটা উত্তম আতিথেয়তা, নাকি জাক্কুমগাছ? নিশ্চয় আমি উহাকে জালেমদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। নিশ্চয় তা এমন এক গাছ, যা প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের তলদেশ থেকে উৎপন্ন হয়। এর ফল যেন শয়তানের মাথা।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ৬২-৬৫)
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ভয়ংকর চেহারার এক গাছের ফলই হলো কোরআনে বর্ণিত সেই জাক্কুম গাছ। এই ফলের আকৃতি মানুষের মাথার খুলির মতো হওয়ায় অনেকে একে শয়তানের মাথার সঙ্গে তুলনা করে প্রচার করছেন।
এই প্রচারণার ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—সত্যিই কি এটি সেই জাক্কুমগাছ, আর কেনই বা এর ফলকে ‘শয়তানের মাথা’র মতো বলা হলো?
জাক্কুম গাছের বাস্তবতা: দুনিয়া নাকি আখেরাত
কোরআনে বর্ণিত এই জাক্কুম গাছকে নিয়ে ছবি প্রচার হওয়ার পর অনেকেই এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, এই গাছের ছবি সত্য হলেও, একে আখেরাতের জাক্কুম মনে করার কোনো কারণ নেই।
সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির শরিয়াহ অনুষদের সাবেক ডিন ড. সাউদ আল-ফুনায়সান স্পষ্ট করে বলেন, “জাক্কুমগাছের যে ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সম্ভবত কৃত্রিমভাবে তৈরি করা বা ফটোশপ করা।
“এমনকি যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এই ধরনের গাছ পৃথিবীতে সত্যি সত্যিই আছে, তবু অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেননা আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুনিয়া ও আখেরাতের জিনিসের মধ্যে নামের মিল থাকা অস্বাভাবিক নয়।
পৃথিবীতে যেমন ‘দুধ’, ‘মধু’, ‘নদী’, ‘গাছপালা’ ইত্যাদি আছে, আখেরাতেও জান্নাতে একই নামের জিনিস থাকবে (যেমন জান্নাতের নহর), কিন্তু স্বাদ ও প্রকৃত স্বরূপের দিক দিয়ে দুটোর মধ্যে কোনো মিল থাকবে না। এটি কেবল নামের সাদৃশ্য। আখেরাতের জান্নাত বা জাহান্নামের বাস্তব রূপ মানুষের পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব নয়।”
রাসুলুল্লাহ (সা.) জাক্কুমগাছ সম্পর্কে বলেছেন, এটি জাহান্নামের তলদেশে উৎপন্ন হয়। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২,৫৮৫)
এর অর্থ হলো, এই গাছ পৃথিবীতে বিদ্যমান নয়, এটি আখেরাতের একটি সৃষ্টি।
‘শয়তানের মাথা’: উপমার রহস্য
পবিত্র কোরআনের এই আয়াতের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক অংশ হলো, জাক্কুমগাছের ফলকে ‘শয়তানের মাথার’ সঙ্গে তুলনা করা।
প্রশ্ন হলো, শয়তানের মাথা তো কারও দেখা নেই, তাহলে কেন এর সঙ্গে উপমা দেওয়া হলো? কারণ, উপমা বা উপমীয় বস্তু সাধারণত শ্রোতার কাছে পরিচিত হয়ে থাকে। একে কি ‘অজ্ঞাত বস্তুর সঙ্গে
ভাষাবিদ ও তাফসিরকাররা এই বিষয়টিকে ‘কাল্পনিক উপমা’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
জাক্কুমগাছের যে ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সম্ভবত কৃত্রিমভাবে তৈরি করা বা ফটোশপ করা।
এই উপমাটি হলো এমন একটি বস্তুর সঙ্গে তুলনা, যা পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করা যায় না। আরবের মানুষের মনে শয়তান সম্পর্কে একটি মানসিক ছবি বিদ্যমান ছিল, যা ছিল চূড়ান্ত কুৎসিত ও বীভৎসতার প্রতীক। কোনো কিছুর চরম কুৎসিত চেহারা বোঝাতে তারা বলত, ‘যেন এটা শয়তানের মুখ’ বা ‘শয়তানের মাথা’।
আল-যামাখশারি (মৃ. ৫৩৮ হি.) উল্লেখ করেছেন, শয়তান মানুষের স্বভাবজাতভাবে ঘৃণিত ও কুৎসিত, কারণ তারা শয়তানকে কেবল মন্দের উৎস হিসেবে বিশ্বাস করে। তাই অত্যন্ত কুৎসিত জিনিসের উপমা দিতে তারা ‘শয়তানের মুখ’ বা ‘শয়তানের মাথা’ ব্যবহার করত।
যখন চিত্রশিল্পীরা শয়তানের ছবি আঁকে, তখন তারা তাদের কল্পনার সবচেয়ে কুৎসিত ও ভয়ংকর রূপটিই তুলে ধরে। এর বিপরীতে, ফেরেশতাকে তারা মূর্ত করে সৌন্দর্যের চরম পরাকাষ্ঠা হিসেবে।
যেমন আল্লাহ তাআলা ইউসুফ (আ.)-কে দেখে নারীদের মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেছেন, ‘ইনি তো মানুষ নন, ইনি এক মহান ফেরেশতা’। (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৩১)
কেউ কেউ ‘শয়তান’ শব্দটি দ্বারা এক বিশেষ ধরনের সাপকে বুঝিয়েছেন। আল-যাজ্জাজ (মৃ. ৩১১ হি.) ও আল-ফাররা (মৃ. ২০৭ হি.) বলেন, ‘শয়তান’ হলো একধরনের সাপ, যার মাথায় ক্রেস্ট বা ঝুঁটি থাকে। এটি সবচেয়ে কুৎসিত, বিষধর এবং হালকা ও দ্রুতগামী সাপ।
৩. ভিন্ন অর্থ: গাছের নাম
কারও কারও মতে, ইয়েমেনে ‘আসতান’ নামে একটি কুৎসিত, দুর্গন্ধযুক্ত, তিক্ত ও রুক্ষ গাছ ছিল, যার ফলকে ‘শয়তানের মাথা’ বলা হতো। আরবদের মধ্যে এই গাছ পরিচিত ছিল বলে জাক্কুমের ফলকে এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তবে নাহ্হাস (মৃ. ৩৩৮ হি.) বলেন, আরবদের মধ্যে এটি সুপরিচিত নয়। (ফাতহুল কাদির, ৪/৪১৭, দারুল ইবনে কাসির, দামেস্ক, ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ)।
আখেরাতের শাস্তি ও পুরস্কারের স্বরূপ দুনিয়ার কোনো কিছুর সঙ্গেই তুলনীয় নয়, তবে মানুষকে এর ভয়াবহতা বা মহিমা সম্পর্কে ধারণা দিতেই আল্লাহ পরিচিত শব্দ ও উপমা ব্যবহার করেছেন।
কাল্পনিক উপমা ও এর তাৎপর্য
এই উপমাটি কাল্পনিক হিসেবে পরিচিত, কারণ শয়তান, ফেরেশতা বা রাক্ষসের যে রূপ মানুষের মনে কল্পিত, তা তাদের অহম বা কল্পনায় বিদ্যমান। বাহ্যিক জগতে এর অস্তিত্ব থাক বা না থাক, মানুষের মনে এই শব্দগুলোর মাধ্যমে চরম সৌন্দর্য (ফেরেশতা) বা চরম বীভৎসতার (শয়তান) একটি ধারণা তৈরি হয়।
শাওকানি বলেন, আল্লাহ তাআলা অদৃশ্য (শয়তানের মাথা) বস্তুর সঙ্গে দৃশ্যমান (জাক্কুমের ফল) বস্তুর তুলনা করেছেন, যাতে মানুষের মনে এর চরম কুৎসিত ও জঘন্য রূপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা জন্মে। যেমন কেউ কাউকে অত্যন্ত কুৎসিত বোঝাতে বলে, ‘সে যেন শয়তান’। (ফাতহুল কাদির, ৪/৪১৭, দার ইবনে কাসির, দামেস্ক, ১৯৯৪)
অতএব, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঐ ছবিটি, যা একটি সুপরিচিত শোভাবর্ধক গাছ (যেমন: স্নাপড্রাগন বা ‘ফিশ মাউথ’), যা শুকিয়ে গেলে মানুষের খুলির মতো দেখায়, তা কোরআনে বর্ণিত আখেরাতের জাক্কুম গাছ নয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিশ্চিত করেছেন যে, জাক্কুম হলো সেই গাছ যা জাহান্নামের তলদেশে উৎপন্ন হয়।
কোরআনের এই উপমা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আখেরাতের শাস্তি ও পুরস্কারের স্বরূপ দুনিয়ার কোনো কিছুর সঙ্গেই তুলনীয় নয়, তবে মানুষকে এর ভয়াবহতা বা মহিমা সম্পর্কে ধারণা দিতেই আল্লাহ পরিচিত শব্দ ও উপমা ব্যবহার করেছেন।
এই ধরনের উপমা আমাদের আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসকে আরও মজবুত করে এবং জাহান্নামের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়।
টমেটো একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সবজি (যদিও উদ্ভিদবিজ্ঞান অনুযায়ী এটি একটি ফল), যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রান্না, সালাদ, স্যুপ এবং সসে ব্যবহৃত হয়। এটি তার উজ্জ্বল লাল রঙ এবং পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত। টমেটোর প্রায় ৯৫ শতাংশই জল এবং এটি ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর।
টমেটোর উপকারিতা (Benefits)
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: টমেটোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো লাইকোপেন, যা এর লাল রঙের জন্য দায়ী। লাইকোপেন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং ক্যান্সার (বিশেষ করে প্রোস্টেট, ফুসফুস এবং পেটের ক্যান্সার) এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। রান্না করা টমেটোতে লাইকোপিনের শোষণ ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়。
ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের উৎস: এটি ভিটামিন C, K, পটাশিয়াম, এবং ফোলেটের (ভিটামিন B9) একটি চমৎকার উৎস। ভিটামিন C রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং আয়রন শোষণে সহায়তা করে। ভিটামিন K হাড়ের স্বাস্থ্য এবং রক্ত জমাট বাঁধতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: টমেটোতে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং লাইকোপেন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
ত্বকের স্বাস্থ্য: টমেটোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে লাইকোপেন, ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা করতে এবং ত্বকের বার্ধক্য কমাতে সাহায্য করতে পারে।
হজম উন্নত করে: এতে ভালো পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজমে সহায়তা করে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কার্যকর।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: টমেটোতে ফাইবার থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
সম্ভাব্য ক্ষতি বা সতর্কতা (Damage/Caution)
যদিও টমেটো পুষ্টিকর, তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সেবন বা নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে।
অ্যাসিডিটি এবং অম্বল: টমেটোতে ম্যালিক এবং সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে, যা প্রকৃতিগতভাবে অম্লীয়। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে বা যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) বা অম্বলের সমস্যা আছে, তাদের অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
কিডনিতে পাথর: টমেটোতে অক্সালেট এবং ক্যালসিয়াম থাকে। যদিও সাধারণভাবে এতে অক্সালেটের পরিমাণ কম, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে সেবন করলে এই উপাদানগুলো শরীরে জমা হতে পারে, যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে, বিশেষ করে যাদের এই ধরনের সমস্যা হওয়ার প্রবণতা আছে।
বাতের ব্যথা বৃদ্ধি: টমেটোতে সোলানিন নামক একটি অ্যালকালয়েড টক্সিন অল্প পরিমাণে থাকে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই সোলানিন গাঁটে বা জয়েন্টে ব্যথা বা ফোলাভাব বাড়াতে পারে। তাই বাতের রোগীদের টমেটো সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অ্যালার্জি: কিছু ব্যক্তির টমেটোতে অ্যালার্জি থাকতে পারে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে。
হজমের সমস্যা: ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) আক্রান্ত ব্যক্তিদের টমেটোতে থাকা নির্দিষ্ট শর্করা বা ফাইবারের কারণে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তিকর হজমের সমস্যা হতে পারে。
উপসংহার: পরিমিত পরিমাণে টমেটো খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। আপনার যদি কোনো স্বাস্থ্যগত অবস্থা থাকে বা উপরে উল্লিখিত কোনো সমস্যা অনুভূত হয়, তবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি দ্রুত সম্প্রসারিত করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করছে। ইরানের ঘন enrich করা ইউরেনিয়াম ব্রিক তৈরীর সক্ষমতা রয়েছে বলে তথ্য এসেছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
ইউএস এর লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে থামানো; আর ইরান বলে পারমাণবিক সরকারিভাবে অস্ত্র বানাবে না (কিন্তু প্রয়োজন হলে করতে পারে) — যা বিশ্বাস কম সৃষ্টি করেছে।
💥 2. সামরিক সংঘাত ও হামলা
২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ চালায়, যার ফলে ইরানের পারমাণবিক কাজকর্ম কয়েক বছর পিছিয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়। ইরান প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে কিছু অংশে হামলা করে।
এই হামলা আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে এবং সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে দিয়েছে।
🪖 3. যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বিরোধী নীতি ও নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে ইরানের ওপর — বিশেষ করে ইরানের তেলের ব্যবসা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য।
এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে আর সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে, যার ফলে দেশটির তেলের রপ্তানি কমেছে।
🧑⚖️ 4. আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক চাপ
ইরানে ২০২৫–২০২৬ সালে সবচেয়ে বড়ো গণআন্দোলন হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে দমন করছে, এবং হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতিকে সমালোচনা করে, কয়েকটি সময় ইরানকে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
🧠 ইতিহাসের মূল পটভূমি
📌 1979 সালের ইসলামিক বিপ্লব
ইরানে শাসন ব্যবস্থা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে বদলে গেলে আমেরিকা–ইরান সম্পর্ক তলানিতে পড়ে। পূর্বে আমেরিকা ইরানের শাসক (শাহ) কে সমর্থন করেছিল — যা বিপ্লবে বিরোধিতার এক বড়ো কারণ ছিল।
📌 1979–1981 হোস্টেজ সংকট
ইরানে আমেরিকান কূটনীতিকদের অপহরণ ঘটে যা সম্পর্ককে তিক্ত করে দেয় এবং ১৯৮১ সালের আলজিয়ার চুক্তি পর্যন্ত চলছিল।
এই অভিজ্ঞতা থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাসের অভাব তৈরি হয়েছে।
📈 সাম্প্রতিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: রাশিয়া ও কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে জানিয়েছে।
জনমত: বেশিরভাগ আমেরিকানই মধ্যপ্রাচ্যের কোন যুদ্ধকে সমর্থন করছে না।
যোগাযোগ ও আলোচনার পরিস্থিতি: গতকালে পারমাণবিক আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, এখন সরাসরি আলোচনার পথ কঠিন।
🧩 সারসংক্ষেপ
👉 মূল সমস্যা হলো ✔ পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা-ঘাটতি ✔ নিরাপত্তা হামলা ও সামরিক উত্তেজনা ✔ নিঃশর্ত নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ ✔ মনোভাবের পার্থক্য ও দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা
এই সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ এবং অসম্ভানাপূর্ণ, এবং আজও শান্তি বা স্থিতিশীল অবস্থায় নেই।
👉 আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও অনেক দেশ কূটনৈতিক সমাধান, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও আলোচনা চাইছে — সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ নয়।
🧠 সারসংক্ষেপ (সহজ ভাষায়)
✔ এখনের পরিস্থিতি যুদ্ধ-আগামী উত্তেজনা – কিন্তু যুদ্ধ এখনও ঠিকই শুরু হয়নি। ✔ দুই দেশই যুদ্ধ চান না, তবে জোরালো অবস্থান দেখাচ্ছে। ✔ যুদ্ধ হওয়ার কারণ মূলত: ইরানের তীব্র অভ্যন্তরীন আন্দোলন, নিরাপত্তা-পারমাণবিক ইস্যু, এবং আমেরিকার চাপ ও হুমকি — যা পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে দিয়েছে। ✔ পূর্ণ যুদ্ধ হলে সেটা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না — মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব তেল বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।✅ ❓ ১. কি এখনই সরাসরি যুদ্ধ (যুদ্ধ বলতে বড়ো সামরিক সংঘাত) ঘটবে?
➡ শুধু এখনি মারিয়া-ফরম্যাটের পূর্ণ যুদ্ধের নিশ্চয়তা নেই। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা থাকলেও অনেকগুলো কারণে সরাসরি বড়ো যুদ্ধ হওয়া এখনও অনিশ্চিত: ✦ ট্রাম্প প্রশাসন সেনা হামলার সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত করেনি, পুরোটাই হুমকি ও কৌশলগত চাপের অংশ হিসেবে বলা হচ্ছে — এখনই হামলা চালানো হয়নি। ✦ মার্কিন প্রশাসন একদিকে ইরানে নিজের নাগরিকদের দেশ ত্যাগ করতে বলেছে, যা ইঙ্গিত দেয় পরিস্থিতি বিপজ্জনক হলেও একটা বড়ো সিদ্ধান্ত আসেনি। ✦ ইরানও বলেছে তারা যুদ্ধ “চায় না”, কিন্তু প্রস্তুত আছে যদি যুদ্ধ শুরু হয় — এটা আক্রমণের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা।
👉 তাই “বৃহদায়তনিক যুদ্ধ” হওয়ার সম্ভাবনা অল্প হলেও কম বলা হয় না, তবে তা এখনই নিশ্চিত নয়।
📌 ২. যুদ্ধ হতে পারে — তাহলে কেন?
⚠ উত্তেজনা বাড়ানোর মূল কারণগুলো
1) ইরানের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে এবং সরকার কঠোরভাবে দমন করছে। মার্কিন সরকার ইরানের সরকারকে কঠিন সমালোচনা করেছে এবং প্রয়োজনে “হস্তক্ষেপের” কথা বলেছে।
2) মার্কিন হুমকি ও কৌশলগত চাপ ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে ইরানে যদি নিরস্ত শান্তিপ্রিয় আন্দোলন দমন করা হয়, তাহলে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। এমন হুমকির মধ্যে সামরিক অপশনও আলোচনা হচ্ছে।
3) আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি মার্কেট প্রভাব ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী দেশ এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখে — যেখানে বিশ্ব তেলের ~২০% যায়। যুদ্ধ হলে এই পথ বন্ধ হওয়ার ভয় আছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড়োভাবে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
4) প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ ইরানের কৌশল হলো ভূখণ্ডের নিরাপত্তা, আর আমেরিকার কৌশল হলো নিজেদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা — এই দিক থেকে দুপক্ষের মধ্যে স্বার্থের সংঘর্ষ তৈরি হচ্ছে।
📉 ৩. যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কত?
✔ সম্পূর্ণ যুদ্ধের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু এখনই খুব বেশি সম্ভাব্য বলা যায় না। কারণ: 👉 সেনা হামলা এখনো শুরু হয়নি এবং অনেক আন্তর্জাতিক পক্ষ (যেমন সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশ) কড়া সামরিক হামলা না করার জন্য বলছে। 👉 আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও অনেক দেশ কূটনৈতিক সমাধান, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও আলোচনা চাইছে — সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ নয়।
🧠 সারসংক্ষেপ (সহজ ভাষায়)
✔ এখনের পরিস্থিতি যুদ্ধ-আগামী উত্তেজনা – কিন্তু যুদ্ধ এখনও ঠিকই শুরু হয়নি। ✔ দুই দেশই যুদ্ধ চান না, তবে জোরালো অবস্থান দেখাচ্ছে। ✔ যুদ্ধ হওয়ার কারণ মূলত: ইরানের তীব্র অভ্যন্তরীন আন্দোলন, নিরাপত্তা-পারমাণবিক ইস্যু, এবং আমেরিকার চাপ ও হুমকি — যা পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে দিয়েছে। ✔ পূর্ণ যুদ্ধ হলে সেটা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না — মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব তেল বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
শসা একটি জনপ্রিয় এবং পুষ্টিকর ফল (উদ্ভিদবিজ্ঞান অনুযায়ী ফল হলেও রান্নায় সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়), যা মূলত এর উচ্চ জলীয় উপাদানের (প্রায় ৯৬%) জন্য পরিচিত। এটি ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে পূর্ণ এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন খাবারে ব্যবহৃত হয়।
শসার উপকারিতা (Benefits)
জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখে: শসাতে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড বা জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা শারীরিক পরিশ্রমের পর। এটি শরীরের টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতেও সাহায্য করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: শসায় ক্যালোরি খুব কম (প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ১৫-১৬ ক্যালোরি) এবং ফাইবার বেশি থাকে। এটি পেট ভর্তি রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখে, যা ওজন কমানোর জন্য উপকারী।
পুষ্টির উৎস: এতে ভিটামিন K, ভিটামিন C, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ভিটামিন K হাড়ের স্বাস্থ্য এবং রক্ত জমাট বাঁধতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: শসাতে ফ্ল্যাভোনয়েড, লিগনান এবং কিউকারবিটাসিন-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়।
হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: এতে থাকা ফাইবার এবং জলের পরিমাণ হজমে সহায়তা করে, মলের ধারাবাহিকতা উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: শসায় থাকা পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শসা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতেও সাহায্য করতে পারে, যদিও এই বিষয়ে আরও মানব গবেষণা প্রয়োজন।
ত্বকের যত্ন: শসার স্লাইস বা রস ত্বকে শীতল প্রভাব ফেলে, ফোলাভাব, জ্বালা এবং রোদে পোড়া ভাব কমাতে সাহায্য করে।
সম্ভাব্য ক্ষতি বা সতর্কতা (Damage/Caution)
যদিও শসা বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ, তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সেবনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হজমের সমস্যা: কিছু লোকের শসা খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা বদহজমের সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়। এটি মূলত কিউকারবিটাসিন নামক একটি যৌগের কারণে ঘটে, যা শসার খোসাতে বেশি থাকে।
বিষাক্ততা (বিরল): কিউকারবিটাসিন খুব বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে তা বিষাক্ত হতে পারে এবং পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা শসাতে সাধারণত এই যৌগের পরিমাণ খুব কম থাকে।
এলার্জি: যারা রাগউইড পরাগ, তরমুজ বা ল্যাটেক্স-এলার্জিক, তাদের শসা খাওয়ার পরেও অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া (যেমন চুলকানি, ফোলাভাব বা শ্বাসকষ্ট) হতে পারে।
নির্দিষ্ট ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া: শসাতে ভিটামিন K থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধার জন্য অপরিহার্য। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন ওয়ারফারিন) গ্রহণ করেন, তাদের হঠাৎ করে শসা খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানো বা কমানো উচিত নয়, কারণ এটি ঔষধের কার্যকারিতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।
কিডনি রোগীদের সতর্কতা: শসাতে পটাসিয়াম থাকে। কিডনির সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিদের অতিরিক্ত পটাসিয়াম গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এটি কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, পরিমিত পরিমাণে শসা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। আপনার যদি কোনো স্বাস্থ্যগত অবস্থা থাকে, তাহলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আইসিসির অনুরোধেও ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ| DeeN Katha
আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে কয়েক দিন ধরেই, চালাচালি হচ্ছে ইমেইল। সব যোগাযোগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) বলে আসছে, নিরাপত্তার কারণে ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। ওদিকে আইসিসিও বিসিবিকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, শেষ মুহূর্তে এসে ভেন্যু পরিবর্তন প্রায় অসম্ভব। ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবি যতটা শঙ্কা প্রকাশ করছে, ততটা শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেও দাবি তাদের।
এই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুপুরে বাংলাদেশের ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে না চাওয়া নিয়ে প্রথম ভার্চ্যুয়াল সভা করেন বিসিবি ও আইসিসি কর্মকর্তারা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হওয়া সভায় বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। আইসিসির সব যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে বিসিবি বলেছে, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে যাবে না, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে দ্বিতীয় চিন্তার সুযোগ নেই। বিসিবি অনুরোধ জানিয়েছে, কলকাতা ও মুম্বাই থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিসিবি আশাবাদী, আইসিসি শেষ পর্যন্ত তাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেবে।
আইসিসির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স শেষে মিরপুরের ক্রিকেট বোর্ড কার্যালয়ে বিসিবির সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থানে অনড় আছি। এই অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও নড়ব না। তারা (আইসিসি) বিকল্পও ভাবছে। আলোচনার পথ খোলা আছে। মাত্র তো কথা শুরু হলো, আমরা আশাবাদী।’ পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি বলেছে, টুর্নামেন্টের সূচি এরই মধ্যে ঘোষিত হয়ে যাওয়ায় বিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে আইসিসি। তবে বিসিবি অবস্থান বদলায়নি। সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করতে দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে। একটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, কোনো কিছু চূড়ান্ত হওয়ার আগে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবি-আইসিসি বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি বাইরে চলে আসায় সভায় অসন্তোষও প্রকাশ করেছে আইসিসি।
ভিডিও কনফারেন্সে বিসিবির পক্ষে ছিলেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, দুই সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান নাজমূল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। অন্যদিকে আইসিসিকে নেতৃত্ব দেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংযোগ গুপ্তা। চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইসিসির নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা।
বিসিবি-আইসিসি ভিডিও কনফারেন্সে দুই পক্ষে ভালো যুক্তিতর্ক হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। সভায় বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসির কাছে জানতে চাওয়া হয়, যেখানে তাদের দেওয়া ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টেই’ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দল ভারতে গেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে নিরাপত্তা বিঘ্নের আশঙ্কা আছে, বাংলাদেশের জার্সি পরে বের হওয়া দর্শকদেরও বিপদের কারণ হতে পারে, সেখানে আইসিসি কীভাবে বিসিবিকে ভারতে দল পাঠাতে বলে?
জবাবে আইসিসি বলেছে, ভারতে যেটুকু নিরাপত্তাশঙ্কা আছে, সেটি ‘লো মডারেট’ বা ‘নিম্ন মাঝারি’ পর্যায়ের। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে এটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু বিসিবি প্রশ্ন তোলে—ভারতে খেলতে গেলে বাংলাদেশ দলের পাশাপাশি বোর্ড কর্মকর্তা, সাংবাদিকেরাও সেখানে যাবেন। তাঁদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কে দেবে?
ভারতে খেলতে না চাইলেও বাংলাদেশ যে অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলতে চায়, সভায় সেটি জোর দিয়ে বলেছেন বিসিবি কর্মকর্তারা। অতীতের উদাহরণ টেনে তাঁরা বলেন, বিভিন্ন সময়ে অন্য অনেক দেশই নিরাপত্তার কারণে অনেক দেশে খেলতে যায়নি। কিন্তু বাংলাদেশ দল কোনো দেশে খেলতে যেতে চায়নি, এমন দৃষ্টান্ত নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ খেলার পক্ষে। এই প্রথম তারা কোনো দেশে খেলতে যেতে চাইছে না এবং সেটি ভারতে ‘মারাত্মক নিরাপত্তাঝুঁকি’ থাকার কারণেই। আইসিসি যেন তা বিবেচনা করে।
চলমান বিপিএলের কথা উল্লেখ করে বিসিবি আইসিসিকে জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবেই এবারের টুর্নামেন্টটাকে নিয়েছিল বিসিবি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচক কমিটি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে, ২৩ জানুয়ারি বিপিএল ফাইনাল শেষে ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়ার তারিখও ঠিক করা আছে। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বদলে দেয়।
বিসিবি মনে করে, উগ্রপন্থীদের দাবির মুখে ভারতের এ সিদ্ধান্তে পরিষ্কার যে সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নেই। আইসিসির পাল্টা যুক্তি—বাংলাদেশের একজন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ বর্তমানে ভারতে কোনো রকম নিরাপত্তা–সংকট ছাড়াই নিউজিল্যান্ড-ভারত সিরিজে আম্পায়ারিং করছেন। বিসিবি সেই যুক্তিও উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, একজনের নিরাপত্তা আর পুরো একটি দল এবং তার সঙ্গে যাওয়া কর্মকর্তা, সাংবাদিক, দর্শকদের নিরাপত্তা এক নয়। এখানে ঝুঁকি অনেক বেশি।
বিসিবি আশাবাদী, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সংকটের ইতিবাচক সমাধান হবে, আইসিসি বিকল্প ভেন্যু খুঁজে বের করবে বাংলাদেশের জন্য। এমন আশার পেছনে আইনি ভিত্তি আছে বলেও দাবি বিসিবির এক কর্মকর্তার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশ। তথ্যপ্রমাণ দিয়ে ভারতে নিরাপত্তাশঙ্কার দাবি জানিয়েছে তারা এবং তা আইনের দৃষ্টিতে যুক্তিসংগত। আইসিসি তা এমনি এমনি বাতিল করে দিতে পারবে না। আর দিলেও পূর্ণ সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অধিকার থাকবে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার।
একদিন বৈশাখের দ্বিপ্রহরে রৌদ্রেরও অন্ত ছিল না, উত্তাপেরও সীমা ছিল না। ঠিক সেই সময়টিতে মুখুয্যেদের দেবদাস পাঠশালা-ঘরের এক কোণে ছেঁড়া মাদুরের উপর বসিয়া, শ্লেট হাতে লইয়া, চক্ষু চাহিয়া, বুজিয়া, পা ছড়াইয়া, হাই তুলিয়া, অবশেষে হঠাৎ খুব চিন্তাশীল হইয়া উঠিল; এবং নিমিষে স্থির করিয়া ফেলিল যে, এই পরম রমণীয় সময়টিতে মাঠে মাঠে ঘুড়ি উড়াইয়া বেড়ানোর পরিবর্তে পাঠশালায় আবদ্ধ থাকাটা কিছু নয়। উর্বর মস্তিষ্কে একটা উপায়ও গজাইয়া উঠিল। সে শ্লেট-হাতে উঠিয়া দাঁড়াইল।
পাঠশালায় এখন টিফিনের ছুটি হইয়াছিল। বালকের দল নানারূপ ভাবভঙ্গী ও শব্দসাড়া করিয়া অনতিদূরের বটবৃক্ষতলে ডাংগুলি খেলিতেছিল। দেবদাস সেদিকে একবার চাহিল। টিফিনের ছুটি সে পায় না-কেননা গোবিন্দ পণ্ডিত অনেকবার দেখিয়াছেন যে, একবার পাঠাশালা হইতে বাহির হইয়া পুনরায় প্রবেশ করাটা দেবদাস নিতান্ত অপছন্দ করে। তাহার পিতারও নিষেধ ছিল। নানা কারণে ইহাই স্থির হইয়াছিল যে এই সময়টিতে সে সর্দার-পোড়ো ভুলোর জিম্মায় থাকিবে।
এখন ঘরের মধ্যে শুধু পণ্ডিত মহাশয় দ্বিপ্রাহরিক আলস্যে চক্ষু মুদিয়া শয়ন করিয়াছিলেন এবং সর্দার-পোড়ো ভুলো এক কোণে হাত-পা ভাঙ্গা একখণ্ড বেঞ্চের উপর ছোটখাটো পণ্ডিত সাজিয়া বসিয়াছিল এবং মধ্যে মধ্যে নিতান্ত তাচ্ছিল্যের সহিত কখন বা ছেলেদের খেলা দেখিতেছিল, কখন বা দেবদাস এবং পার্বতীর প্রতি আলস্য-কটাক্ষ নিক্ষেপ করিতেছিল। পার্বতী এই মাসখানেক হইল পণ্ডিত মহাশয়ের আশ্রয়ে এবং তত্ত্বাবধানে আসিয়াছে। পণ্ডিত মহাশয় সম্ভবতঃ এই অল্পসময়ের মধ্যেই তাহার একান্ত মনোর ন করিয়াছিলেন, তাই সে নিবিষ্টমনে, নিরতিশয় ধৈর্যের সহিত সুপ্ত পণ্ডিতের প্রতিকৃতি বোধোদয়ের শেষ পাতাটির উপর কালি দিয়া লিখিতেছিল এবং দক্ষ চিত্রকরের ন্যায় নানাভাবে দেখিতেছিল যে, তাহার বহু-যত্নের চিত্রটি আদর্শের সহিত কতখানি মিলিয়াছে। বেশী যে মিল ছিল তাহা নয়; কিন্তু পার্বতী ইহাতেই যথেষ্ট আনন্দ ও আত্মপ্রসাদ উপভোগ করিতেছিল।
এই সময় দেবদাস শ্লেট-হাতে উঠিয়া দাঁড়াইল এবং ভুলোর উদ্দেশে ডাকিয়া বলিল, অঙ্ক হয় না।
ভুলো শান্ত গম্ভীরমুখে কহিল, কি আঁক?
মণকষা-
শেলেটটা দেখি-
ভাবটা এই যে, তাহার নিকট এ-সব কাজে শ্লেটখানি হাতে পাওয়ার অপেক্ষা মাত্র। দেবদাস তাহার হাতে শ্লেট দিয়া নিকটে দাঁড়াইল। ভুলো ডাকিয়া লিখিতে লাগিল যে, এক মণ তেলের দাম যদি চৌদ্দ টাকা নয় আনা তিন গণ্ডা হয়, তাহা হইলে-
এমনি সময়ে একটা ঘটনা ঘটিল। হাত-পা-ভাঙ্গা বেঞ্চখানার উপর সর্দার-পোড়ো তাহার পদমর্যাদার উপযুক্ত আসন নির্বাচন করিয়া যথানিয়মে আজ তিন বৎসর ধরিয়া প্রতিদিন বসিয়া আসিতেছে। তাহার পশ্চাতে একরাশি চুন গাদা করা ছিল। এটি পণ্ডিত মহাশয় কবে কোন্ যুগে নাকি সস্তা দরে কিনিয়া রাখিয়াছিলেন, মানস ছিল, সময় ভাল হইলে ইহাতে কোঠা-দালান দিবেন। কবে যে সে শুভদিন আসিবে তাহা জানি না। কিন্তু এই শ্বেত-চূর্ণের প্রতি তাঁহার সতর্কতা এবং যত্নের অবধি ছিল না। সংসারানভিজ্ঞ, অপরিণামদর্শী কোন অলক্ষ্মী-আশ্রিত বালক ইহার রেণুমাত্র নষ্ট না করিতে পারে, এইজন্য প্রিয়পাত্র এবং অপেক্ষাকৃত বয়স্ক ভোলানাথ এই সযত্ন-সঞ্চিত বস্তুটি সাবধানে রক্ষা করিবার ভার পাইয়াছিল এবং তাই সে বেঞ্চের উপর বসিয়া ইহাকে আগুলিয়া থাকিত।
ভোলানাথ লিখিতেছিল-এক মণ তেলের দাম যদি চৌদ্দ টাকা নয় আনা তিন গণ্ডা হয়, তাহা হইলে,-ওগো বাবা গো-তাহার পর খুব শব্দ-সাড়া হইল। পার্বতী ভয়ানক উচ্চকণ্ঠে চেঁচাইয়া হাততালি দিয়া মাটিতে লুটাইয়া পড়িল। সদ্যঃনিদ্রোত্থিত গোবিন্দ পণ্ডিত রক্তনেত্রে একেবারে উঠিয়া দাঁড়াইলেন; দেখিলেন, গাছতলায় ছেলের দল একেবারে সার বাঁধিয়া হৈহৈ শব্দে ছুটিয়া চলিয়াছে, এবং তখনি চক্ষে পড়িল যে, ভগ্ন বেঞ্চের উপর একজোড়া পা নাচিয়া বেড়াইতেছে এবং চুনের মধ্যে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হইতেছে। চীৎকার করিলেন, কি-কি-কি রে!
বলিবার মধ্যে শুধু পার্বতী ছিল। কিন্তু সে তখন ভূমিতলে লুটাইতেছে এবং করতালি দিতেছে। পণ্ডিত মহাশয়ের বিফল প্রশ্ন ক্রুদ্ধভাবে ফিরিয়া গেল, কি কি-কি রে!
তাহার পর শ্বেতমূর্তি ভোলানাথ চুন ঠেলিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। পণ্ডিত মহাশয় আবার চীৎকার করিলেন, গুয়োটা তুই!-তুই ওর ভেতর!
অ্যাঁ-অ্যাঁ-অ্যাঁ-
আবার!
দেবা শালা-ঠেলে-অ্যাঁ-অ্যাঁ-মণকষা-
আবার গুয়োটা!
কিন্তু পরক্ষণেই সমস্ত ব্যাপারটা বুঝিয়া লইয়া, মাদুরের উপর উপবেশন করিয়া প্রশ্ন করিলেন, দেবা ঠেলে ফেলে দিয়ে পালিয়েচে?
ভুলো আরো কাঁদিতে লাগিল-অ্যাঁ-অ্যাঁ-অ্যাঁ-
তাহার পর অনেকক্ষণ ধরিয়া চুন ঝাড়াঝাড়ি হইল, কিন্তু সাদা এবং কাল রঙে সর্দার-পোড়োকে কতকটা ভূতের মত দেখাইতে লাগিল এবং তখনও তাহার ক্রন্দনের নিবৃত্তি হইল না।
পণ্ডিত বলিলেন, দেবা ঠেলে ফেলে পালিয়েচে? বটে?
ভুলো বলিল-অ্যাঁ-অ্যাঁ-
পণ্ডিত বলিলেন, এর শোধ নেব।
ভুলো কহিল,-অ্যাঁ-অ্যাঁ-অ্যাঁ-
পণ্ডিত প্রশ্ন করিলেন, ছোঁড়াটা কোথায়-
তাহার পর ছেলেদের দল রক্তমুখে হাঁপাইতে হাঁপাইতে ফিরিয়া আসিয়া জানাইল, দেবাকে ধরা গেল না। উঃ-যে ইঁট ছোঁড়ে-!
ধরা গেল না?
আর একজন বালক পূর্বকথার প্রতিধ্বনি করিল-উঃ-যে-
থাম বেটা-
সে ঢোক গিলিয়া একপাশে সরিয়া গেল। নিষ্ফল-ক্রোধে পণ্ডিতমশাই প্রথমে পার্বতীকে খুব ধমকাইয়া উঠিলেন; তাঁহার পর ভোলানাথের হাত ধরিয়া কহিলেন, চল্, একবার কাছাড়িবাড়িতে কর্তাকে বলে আসি।
ইহার অর্থ এই যে, জমিদার নারায়ণ মুখুয্যের নিকট তাঁহার পুত্রের আচরণের নালিশ করিবেন।
তখন বেলা তিনটা আন্দাজ হইয়াছিল। নারায়ণ মুখুয্যেমশায় বাহিরে বসিয়া গড়গড়ায় তামাক খাইতেছিলেন এবং একজন ভৃত্য হাতপাখা লইয়া বাতাস করিতেছিল। সছাত্র পণ্ডিতের অসময় আগমনে কিছু বিস্মিত হইয়া কহিলেন, গোবিন্দ যে!
গোবিন্দ জাতিতে কায়স্থ-ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করিয়া ভুলোকে দেখাইয়া সমস্ত কথা সবিস্তারে বর্ণনা করিলেন। মুখুয্যেমশায় বিরক্ত হইলেন; বলিলেন, তাইত, দেবদাস যে শাসনের বাইরে গেছে দেখচি!
তা কি জানি? যারা ধরতে গিয়েছিল, তাদের ইঁট মেরে তাড়িয়েচে।
তাঁহারা দুইজনেই কিছুক্ষণ চুপ করিয়া রহিলেন। নারায়ণবাবু বলিলেন, বাড়ি এলে যা হয় করব।
গোবিন্দ ছাত্রের হাত ধরিয়া পাঠশালায় ফিরিয়া গিয়া মুখ ও চোখের ভাবভঙ্গীতে সমস্ত পাঠশালা সন্ত্রাসিত করিয়া তুলিলেন এবং প্রতিজ্ঞা করিলেন যে, দেবদাসের পিতা সে অঞ্চলের জমিদার হইলেও তাহাকে আর পাঠশালে ঢুকিতে দিবেন না। সেদিন পাঠশালার ছুটি কিছু পূর্বেই হইল; যাইবার সময় ছেলেরা অনেক কথা বলাবলি করিতে লাগিল।
একজন কহিল, উঃ! দেবা কি ষণ্ডা দেখেচিস!
আর একজন কহিল, ভুলোকে আচ্ছা জব্দ করেচে।
উঃ, কি ঢিল ছোঁড়ে!
আর একজন ভুলোর তরফ হইতে কহিল,-ভুলো শোধ নেবে দেখিস।
ইস্-সে ত আর পাঠশালায় আসবে না যে শোধ নেবে।
এই ক্ষুদ্র দলটির একপাশে পার্বতীও বই-শ্লেট লইয়া বাড়ি আসিতেছিল। সে নিকটবর্তী একজন ছেলের হাত ধরিয়া জিজ্ঞাসা করিল, মণি, দেবদাদাকে আর পাঠশালায় সত্যি আসতে দেবে না?
মণি বলিল, না-কিছুতেই না।
পার্বতী সরিয়া গেল- কথাটা তার বরাবরই ভাল লাগে নাই।
পার্বতীর পিতার নাম নীলকণ্ঠ চক্রবর্তী। চক্রবর্তী মহাশয় জমিদারের প্রতিবেশী অর্থাৎ মুখুয্যে মহাশয়ের খুব বড় বাড়ির পার্শ্বে তাঁহার ছোট এবং পুরাতন সেকেলে ইঁটের বাড়ি। তাঁহার দু-দশ বিঘা জমিজমা আছে, দু-চার ঘর যজমান আছে, জমিদারবাড়ির আশা-প্রত্যাশাটা আছে,-বেশ স্বচ্ছন্দ পরিবার-বেশ দিন কাটে।
প্রথমে ধর্মদাসের সহিত পার্বতীর সাক্ষাৎ হইল। সে দেবদাসের বাটীর ভৃত্য। এক বৎসর বয়স হইতে আজ দ্বাদশবর্ষ বয়স পর্যন্ত তাহাকে লইয়াই আছে-পাঠশালায় পৌঁছিয়া দিয়া আসে এবং ছুটির সময় সঙ্গে করিয়া বাটী ফিরাইয়া আনে। এ কাজটি সে যথানিয়মে প্রত্যহ করিয়াছে এবং আজিও সেইজন্যই পাঠশালায় যাইতেছিল। পার্বতীকে দেখিয়া কহিল, কৈ পারু, তোর দেবদাদা কোথায়?
পালিয়ে গেছে-
ধর্মদাস ভয়ানক আশ্চর্য হইয়া বলিল, পালিয়ে গেছে কি রে?
তখন পার্বতী ভোলানাথের দুর্দশার কথা মনে করিয়া আবার নূতন করিয়া হাসিতে শুরু করিল,-দেখ্ ধম্ম, দেবদা-হি হি হি-একেবারে চুনের গাদায়-হি হি-হু হু-একেবারে ধম্ম চিৎ করে-
ধর্মদাস সব কথা বুঝিতে না পারিলেও হাসি দেখিয়া খানিকটা হাসিয়া লইল; পরে হাস্য সংবরণ করিয়া জিদ করিয়া কহিল, বল না পারু, কি হয়েচে?
ধর্মদাস এবার বাকীটা বুঝিয়া লইল এবং অতিশয় চিন্তিত হইল; বলিল, পারু সে এখন কোথায় আছে জানিস?
আমি কি জানি!
তুই জানিস-বলে দে। আহা তার বোধ হয় খুব খিদে পেয়েচে।
তা ত পেয়েচে-আমি কিন্তু বলব না।
কেন বলবি নে?
বললে আমাকে বড় মারবে। আমি খাবার দিয়ে আসব।
ধর্মদাস কতকটা সন্তুষ্ট হইল-কহিল, তা দিয়ে আসিস, আর সন্ধ্যের আগে ভুলিয়ে-ভালিয়ে বাড়ি ডেকে আনিস।
আনব।
বাটীতে আসিয়া পার্বতী দেখিল, তাহার মা এবং দেবদাসের মা উভয়েই সব কথা শুনিয়াছেন। তাহাকেও এ কথা জিজ্ঞাসা করা হইল। হাসিয়া গম্ভীর হইয়া সে যতটা পারিল কহিল। তাহার পর আঁচলে মুড়ি বাঁধিয়া জমিদারদের একটা আমবাগানের ভিতর প্রবেশ করিল। বাগানটা তাহাদেরই বাটীর নিকটে, এবং ইহারই একান্তে একটা বাঁশঝাড় ছিল। সে জানিত, লুকাইয়া তামাক খাইবার জন্য দেবদাস এই বাঁশঝাড়ের মধ্যে কতকটা স্থান পরিষ্কার করিয়া রাখিয়াছিল। পলাইয়া লুকাইয়া থাকিতে হইলে ইহাই তাহার গুপ্তস্থান। ভিতরে প্রবেশ করিয়া পার্বতী দেখিল, বাঁশঝোপের মধ্যে দেবদাস ছোট একটা হুঁকা-হাতে বসিয়া আছে এবং বিজ্ঞের মত ধূমপান করিতেছে। মুখখানা বড় গম্ভীর-যথেষ্ট দুর্ভাবনার চিহ্ন তাহাতে প্রকাশ পাইতেছে। পার্বতীকে দেখিতে পাইয়া সে খুব খুশী হইল, কিন্তু বাহিরে প্রকাশ করিল না। তামাক টানিতে টানিতে গম্ভীরভাবেই কহিল, আয়।
পার্বতী কাছে আসিয়া বসিল। আঁচলে যাহা বাঁধা ছিল, তৎক্ষণাৎ দেবদাসের চক্ষে পড়িল। কোন কথা জিজ্ঞাসা না করিয়া সে তাহা খুলিয়া খাইতে আরম্ভ করিয়া কহিল, পারু, পণ্ডিতমশাই কি বললে রে?
জ্যাঠামশায়ের কাছে বলে দিয়েচে।
দেবদাস হুঁকা নামাইয়া চক্ষু বিস্ফারিত করিয়া কহিল, বাবাকে বলে দিয়েচে?
হাঁ।
তারপর?
তোমাকে আর পাঠশালায় যেতে দেবে না।
আমি পড়তেও চাই না।
এই সময়ে তাহার খাদ্যদ্রব্য প্রায় ফুরাইয়া আসিল, দেবদাস পার্বতীর মুখপানে চাহিয়া বলিল, সন্দেশ দে।
পার্বতী চুপ করিয়া রহিল। তারপর তাহার পিঠে একটা কিল পড়িল-যাবিনে?
পার্বতী কাঁদিয়া ফেলিল-আমি কিছুতেই যাব না।
দেবদাস একদিকে চলিয়া গেল। পার্বতীও কাঁদিতে কাঁদিতে একেবারে দেবদাসের পিতার সুমুখে আসিয়া উপস্থিত হইল। মুখুয্যেমশাই পার্বতীকে বড় ভালবাসিতেন। বলিলেন, পারু, কাঁদচিস কেন মা?
দেবদা মেরেচে।
কোথায় সে?
ঐ বাঁশবাগানে বসে তামাক খাচ্ছিল।
একে পণ্ডিত মহাশয়ের আগমন হইতেই তিনি চটিয়া বসিয়াছিলেন-এখন এই সংবাদটা তাঁহাকে একেবারে অগ্নিমূর্তি করিয়া দিল। বলিলেন, দেবা বুঝি আবার তামাক খায়?
হাঁ খায়, রোজ খায়। বাঁশবাগানে তার হুঁকো নুকোন আছে-
এতদিন আমাকে বলিস নি কেন?
দেবদাদা মারবে বলে।
কথাটা কিন্তু ঠিক তাই নহে। প্রকাশ করিলে দেবদাস পাছে শাস্তি ভোগ করে, এই ভয়ে সে কোন কথা বলে নাই। আজ কথাটা শুধু রাগের মাথায় বলিয়া দিয়াছে। এই তাহার সবে আট বৎসরমাত্র বয়স-রাগ এখন বড় বেশী; কিন্তু তাই বলিয়া তাহার বুদ্ধি-বিবেচনা নিতান্ত কম ছিল না। বাড়ি গিয়া বিছানায় শুইয়া অনেকক্ষণ কাঁদিয়া-কাটিয়া ঘুমাইয়া পড়িল,-সে রাত্রে ভাত পর্যন্ত খাইল না।
ঠিক এক বছর আগে সবাইকে চমকে দিয়ে বিয়ের খবর জানান জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনয়শিল্পী তাহসান রহমান খান। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রূপসজ্জাশিল্পী রোজা আহমেদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে নিয়ে সে সময় বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টানা কয়েক দিন ট্রেন্ডিংয়ে ছিল তাহসানের বিয়ের খবর। তবে বছর না ঘুরতেই এলো বিচ্ছেদের সংবাদ। গত শনিবার প্রথম আলোকে তাহসান নিজেই তাঁদের বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিচ্ছেদের খবরে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তুমুল প্রেমের পর বিয়ে—তারপর এত দ্রুত সম্পর্কের সমাপ্তি কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে কৌতূহলী ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, প্রেমের সময়ের তুলনায় দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে থাকার সময়টা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় সংগীতসফরে যাওয়ার আগেই তাহসান ও রোজা আলাদা থাকছিলেন। সে সময় মেলবোর্ন থেকে তাহসান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন গান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কথা।
গতকাল তাহসান জানিয়েছেন, ওই সময়েরও আগে থেকেই তাঁরা আলাদা ছিলেন। এরপর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আর প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাঁকে। অন্যদিকে, রোজা বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। এতে অনেকের ধারণা ছিল, সম্পর্কটি এখনো টিকে আছে। তবে ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।
তাহসান খানছবি : প্রথম আলো
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাহসান ও রোজার ঘনিষ্টজনেরা জানিয়েছেন, বিয়ের পর দুজনের জীবনদর্শন ও প্রত্যাশার জায়গায় কিছু পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাহসান চেয়েছিলেন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিগত ও নিরিবিলি জীবনযাপন করতে। সে কারণেই বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষ্ক্রিয় করা—এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সংসারকেই দিতে চেয়েছিলেন অগ্রাধিকার।
অন্যদিকে, বিয়ের পর রোজার পরিচিতি ও সামাজিক পরিসর বেড়েছে। নতুন এই বাস্তবতাকে তিনি উপভোগ করছিলেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ভিন্ন ভিন্ন মানসিক অবস্থান ও জীবনযাপনের ধারা ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে।
ঘনিষ্ঠ মহলের ভাষ্যমতে, শুরুতে এই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা হলেও একসময় মতের অমিল প্রকট হয়ে ওঠে। কাউকে দোষারোপ না করে, পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকে সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন দুজনই। জানা গেছে, গেল বছরের শেষ দিকেই বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় সংগীতসফরে যাওয়ার আগেই তাহসান ও রোজা আলাদা থাকছিলেনকোলাজ
তাহসানের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আগের সংসারে তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার সঙ্গে তিনি নিয়মিত সময় কাটান। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাহসান বরাবরই সংযত। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি নীরবতাকেই বেছে নিয়েছেন।
ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, বিচ্ছেদ হলেও দুজনই বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সামলেছেন। সম্পর্ক জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই বলেই জানা গেছে। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়—বরং জীবন ও সম্পর্কের বাস্তবতায় ভিন্ন পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী, ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে ‘আটক’ করেছে।
মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে ‘আমেরিকান বিচারের মুখোমুখি’ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প প্রশাসন বহুদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, মাদুরো সরকার যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও গ্যাং সদস্য পাঠাচ্ছে। এ নিয়ে ভেনেজুয়েলার ওপর নানারকম চাপ প্রয়োগের পর মার্কিন এই অভিযানের ঘটনা ঘটল।
ভেনেজুয়েলা পরিচালনার ঘোষণা ট্রাম্পের
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটকের পর ‘আমেরিকান বিচারের মুখোমুখি’ করার জন্য নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার-এ-লাগোসে দেওয়া সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তাদের এখন নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেখানে তারা আমেরিকান বিচারের মুখোমুখি হবেন।
যুক্তরাষ্ট্র “ভেনেজুয়েলা ও তার নেতার বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরের হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে”
মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসা হচ্ছে
“ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রদবদল না হওয়া পর্যন্ত আমরাই দেশটি চালাবো,” বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বর্তমানে যারা রয়েছে, তাদের সরিয়ে দিয়ে ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করার জন্য লোকজন মনোনীত করার কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
“প্রয়োজনে আরও বড় পরিসরে দ্বিতীয় দফায় আক্রমণের প্রস্তুতি রেখেছি আমরা,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার ইস্যুতে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ ‘তিনটি আশঙ্কা’র কথা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বলে সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিসিবিও একটি বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ একটি যোগাযোগের অংশ ওই চিঠি।
সেই চিঠিটি বিবিসি বাংলার হাতে এসেছে।
চিঠিটি মূলত একটি ইমেইল, যেটি আইসিসির সিকিউরিটি ম্যানেজার বা নিরাপত্তা বিভাগের ব্যবস্থাপক পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টাকে। মেইলটি পাঠানো হয়েছে ৮ই জানুয়ারি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং বাংলাদেশের সমর্থকরা ভারতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, মূলত সেটিই মেইলের বিষয়বস্তু। মেইলে বাংলাদেশ টিমের ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট সামারি’ বা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে তার সারাংশ জানিয়েছেন আইসিসির সিকিউরিটি ম্যানেজার।
সাধারণত, আইসিসি যে কোনো আসর আয়োজনের ক্ষেত্রে এই ধরনের ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ বা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে থাকে, যেখানে পুরো আসরের আগে ঝুঁকির মাত্রা মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রতিটি ভেন্যুকে ঘিরে প্রতিটি দলের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এই ঝুঁকি মূল্যায়নের পর সাধারণত প্রতিটি দলের জন্য প্রতিবেদন দেয়া হয়।
যা রয়েছে আইসিসির মেইলে
মেইলের শুরুতে তেসরা জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাওয়ার দাবি এবং মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর চারটি বিষয়ে আলাদা করে বাংলাদেশ দলের ভারত সফরের ঝুঁকির মূল্যায়ন করা হয়েছে।
‘আজ যে কোচকে নিয়ে সমর্থকেরা উল্লাস করে তার অমরত্ব চাইছে, পরের রোববার সেই একই কোচকেই তারা মরতে বলবে’—ফুটবল কোচদের চাকরি নিয়ে ‘সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো’ বইয়ে আক্ষেপ করে কথাটা লিখেছিলেন উরুগুয়ের বিখ্যাত লেখক এদুয়ার্দো গালিয়ানো। বলা হয়, কোচদের বাক্স–পেটরা গোছানোই থাকে, কে জানে কখন আবার বিদায়ঘণ্টা বাজে! কোচের চাকরিতে নির্মম এই বাস্তবতা গতকাল রাতে হয়তো কঠিনভাবে উপলব্ধি করেছেন জাবি আলোনসো।
‘এলাম, দেখলাম এবং জয় করলাম’ ভঙ্গিতে কোচিং দুনিয়ায় জাবির আবির্ভাব, মাত্র সাত মাসের মাথায় বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব থেকে ছাঁটাই হয়ে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখলেন তিনি। বুঝলেন, কোচের চাকরি মানে কাঁটার মুকুট পরে ডাগআউটে দাঁড়ানোর বিয়োগান্ত এক গল্পও, যেখানে শেষটা বেশির ভাগ সময় হতাশা মোড়ানোই হয়। প্রশ্ন হলো, বায়ার লেভারকুসেনের মতো দলকে ইতিহাস গড়ে যিনি শিরোপা জিতিয়েছিলেন, তিনি রিয়ালে এসে কোথায় ভুল করলেন? যেখানে পরিবেশটা ছিল তাঁর কাছে হাতে তালুর মতো চেনা। নাকি খুব দ্রুতই তাঁকে ছাঁটাই করে অন্যায় করেছে রিয়াল?খেলোয়াড় হিসেবে আক্ষেপ বলে কোনো শব্দ নেই আলোনসোর প্রোফাইলে। বিশ্বকাপ, ইউরো, চ্যাম্পিয়নস লিগসহ সম্ভাব্য যা যা জিততে পারতেন সবই জিতেছেন তিনি। অবসর নিয়েছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের একজন হিসেবে। এরপর নেমেছেন কোচিংয়ে। রিয়াল সোসিয়েদাদের বি দল দিয়ে শুরু করে ২০২২ সালে দায়িত্ব নেন লেভারকুসেনের।পরের গল্পটা রীতিমতো রূপকথা! আলোনসোর লেভারকুসেনের দায়িত্ব নেওয়ার সময়টাও একেবারে পক্ষে ছিল না। সে সময় জেরার্দো সিওয়ানের অধীন ৮ ম্যাচের মাত্র ১টি জিতে অবনমনের শঙ্কায় কাঁপছিল বুন্দেসলিগার ক্লাবটি। এরপরও চ্যালেঞ্জটা নেন আলোনসো। অবনমন অঞ্চল থেকে লেভারকুসেনকে টেনে তোলেন লিগ টেবিলে ৬ নম্বরে। শুরুতে অনেকে এ অর্জনকে আকস্মিক চমক হিসেবে দেখলেও পরের মৌসুমে যা ঘটেছে, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।
কখনো ট্রফি না জেতা লেভারকুসেন অপরাজিত থেকে বুন্দেসলিগার শিরোপাসহ ঘরোয়া ট্রেবল জেতে। ইউরোপা লিগে হার মানতে হয় ফাইনালে। সব মিলিয়ে বিস্ময়কর এক মৌসুম পার করেছিল আলোনসোর লেভারকুসেন। পরের মৌসুমে অবশ্য আর কোনো সাফল্য আসেনি। আর মৌসুম শেষে আলোনসো প্রত্যাশিতভাবে যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে, যেখানে বিদায়ী কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।রিয়ালে শুরুতেই আলোনসো বিতর্কে আসেন লুকা মদরিচকে বাদ দিয়ে। যেভাবে কিংবদন্তি মদরিচকে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল, তা অনেকের দৃষ্টিতে অন্যায়। এরপরও সবার দৃষ্টি ছিল মাঠের পারফরম্যান্সে। পরিসংখ্যান বলছে, আলোনসোর অধীন রিয়ালের পারফরম্যান্স একেবারে খারাপ ছিল না। ৩৪ ম্যাচে, ২৪ জয়, ৬ হার ও ৪ ড্র।। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বার্সেলোনায় ৩৪ ম্যাচ পর কোচ হান্সি ফ্লিকের পারফরম্যান্সও ছিল একই রকম। ফ্লিক পরবর্তী সময়ে ঘরোয়া ‘ট্রেবল’সহ চারটি শিরোপা জিতেছেন। রিয়াল কি তবে একটু তাড়াহুড়াই করে বসল?এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া কঠিন। কারণ, রিয়ালে আলোনসোর সময়টা ছিল বেশ ধোঁয়াশাপূর্ণ। ম্যাচের ফলে যা দেখা যাচ্ছে এবং ফলের বাইরের চিত্রটা মোটেই এক রকম নয়। লেভারকুসেনে আলোনসো নিজের কোচিং–দর্শনে বাজিমাত করেছিলেন, রিয়ালে যেটা প্রায় ছিলই না। ম্যাচ জেতার জন্য আলোনসোকে নির্ভর করতে হয়েছে বিশেষ কোনো মুহূর্ত কিংবা বিশেষ কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত দক্ষতায়। আরও সহজ করে বললে কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর।
আলোনসোর পুরো সময়টাতে রিয়াল স্বরূপে খেলতে পেরেছেন শুধু এমবাপ্পেই। রদ্রিগো কিংবা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ বাকি তারকাদের প্রায় সবাই ঢাকা ছিলেন নিজেদের ছায়াতেই। এই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নিজেদের সেরাটা বের করে আনার মুনশিয়ানা দেখাতে পারেননি আলোনসো। ফলে দলগত ঐক্য ও কৌশলগত দর্শন সেভাবে ফুটেও ওঠেনি। বিশেষত ‘জাবিবল’ নামের যে কোচিং–দর্শনকে আলোনসো পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, রিয়ালে তা শুধু খাতা–কলমেই রয়ে যায়। গত সাত মাসে রিয়ালের আলোনসোর কৌশল বেশ রহস্যময় এক ঘটনা হয়েই থাকবে।
এই নামগুলোই বড় দলের বিপক্ষে রিয়ালের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। পাশাপাপশি জয়ের পরিসংখ্যান যে সঠিক বার্তা দিচ্ছে না, তা–ও এখানে একরকম স্পষ্ট। বড় দলগুলোর বিপক্ষে রিয়ালের এমন ব্যর্থতার মূল কারণগুলোর অন্যতম নড়বড়ে রক্ষণ। আলোনসোর আক্রমণাত্মক ও হাইলাইন ডিফেন্সের ফুটবল বড় দলগুলোর বিপক্ষে বারবার ঝুঁকিতে ফেলেছে দলকে। এ ছাড়া প্রতি–আক্রমণেও বেশ ভুগেছে রিয়াল।
মাঠের এলোমেলো কৌশল ও পরিকল্পনার বাইরে রিয়ালের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোনসোর বোঝাপড়ার ঘাটতিও ছিল দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে আলোনসোর বিরোধ রিয়ালকে পুরো সময়ে ভুগিয়েছে। শুধু ভিনিসিয়ুসই নন, রিয়ালের বেশ কজন খেলোয়াড় আলোনসোর ওপর খুশি ছিলেন এমনকি অনেকেই ছাঁটাইয়ের পর আলোনসোকে বিদায়ী বার্তা পর্যন্ত দেননি। ক্লাব ছাড়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়াতেও বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন আলোনসো। স্পেনের রেডিও লা কাদেনা সের জানিয়েছে, আলোনসো ছাঁটাই হওয়ার পর বলেছেন, ‘আপনি খেলোয়াড়দের হাতে এত ক্ষমতা দিতে পারেন না। ক্লাব যদি সব সময় খেলোয়াড়দের পক্ষ নেয়, তবে ড্রেসিংরুম পরিচালনা করা কঠিন।’ এ ছাড়া রিয়ালে নিজের গড়া দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে ব্যর্থ হন আলোনসো। এটিও মাঠের লড়াইয়ে রিয়ালকে বেশ ভুগিয়েছে।নাজাবির ছাঁটাই হওয়ার আরেকটি বড় কারণ, দলকে ভবিষ্যৎ দেখাতে না পারা। মৌসুমের প্রথম শিরোপা লড়াইয়ে রোববার হেরে গেছে রিয়াল। গত মৌসুমে সব হারানো রিয়ালের জন্য এটি বড় ধরনের ব্যর্থতা। এমনকি সামনে থাকা ট্রফিগুলোও যে রিয়াল জিততে পারে, সে আশাও দেখাতে পারেননি তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মোমেন্টাম হারানো নিশ্চিতভাবেই রিয়াল কর্তৃপক্ষকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল, যার শেষটা হয়েছে ক্লাব থেকে ছাঁটাইয়ের মধ্য দিয়ে।
আলোনসোর কোচিং ক্যারিয়ার অবশ্য কেবলই শুরু হয়েছে। আর এই পেশায় হুটহাট ছাঁটাইয়ের ঘটনা খুব অস্বাভাবিক কিছুও নয়। তবে যাঁরা আলোনসোর হাত ধরে রিয়ালে বিপ্লব দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁদের রিয়াল–আলোনসো জুটির পরিণতিটা হতাশাজনক এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।