হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রহ) এর সাথে জনৈক ইহুদীর খুবই বন্ধুত্ব ছিল। একদিন ইহুদি তার নিকট এসে কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) বললেন, কোথায় যাচ্ছ।
ইহুদি বলল, আজ আমাদের একটি সমাবেশ আছে, সব ইহুদি সেখানে উপস্থিত হবে। আমিও সেখানে যাবো।
জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) বললেন, আমাকে তোমার সাথে নিয়ে চলো।
ইহুদি বলল আপনি সেখানে যেতে পারবেন না সেখানে কোন মুসলিমকে দেখলেই হত্যা করে ফেলবে। তিনি বললেন আমি তোমাদের বেশ ধরে যাব।
তার সাথে সেখানে গিয়ে দেখেন একটি আসন তৈরি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর একজন বৃদ্ধাকে সেই আসনে বসানো হলো। এই বৃদ্ধা প্রতিবছর এখানে বসে জনতাকে একটামাত্র উপদেশ দিতেন। তারা সবাই সেই উপদেশ পালন করত।
কিন্তু এইবার সে চুপ করে বসে রইল। ভক্তরা বলে উঠলো! আপনি আজ কিছুই বলছেন না কেন? আমরা যে আপনার বাণী শোনার জন্য অধীর আগ্রহে আছি। বৃদ্ধ বললো, এই মজলিসে একজন মুসলমান আছে। তাই আমি কোন কথা বলতে পারছিনা। ইহুদি বলে উঠলো কে সেই মুসলিম আমরা তাকে হত্যা করব। বৃদ্ধা বলল না! খবরদার তাঁকে হত্যা করবে না। ওই সেই ব্যক্তি তাকে আমার নিকট নিয়ে আসো।
জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) কে নিয়ে আসা হল। বৃদ্ধ বললো আপনি কেন এখানে আসলেন। তিনি বললেন তামাশা দেখার জন্য এসেছি। বৃদ্ধ বললো আপনি যখন এসেছেন এখন আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিন। তিনি বললেন আমি যদি তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি তাহলে তুমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে? বৃদ্ধা বললো আমি ওয়াদা করলাম, আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবো।
জুনায়েদ বললেন, প্রশ্নকারী বড় না উত্তরদাতা বড়? সে বলল উত্তরদাতা বড়। তখন তিনি বললেন তুমি প্রশ্নকারী তুমি আসন হতে নেমে আসো আমি ওই আসনে বসে উত্তর দিব। বৃদ্ধা নেমে আসলো তিনি গিয়ে সেই আসনে বসলেন।
আচ্ছা প্রশ্ন করো। বৃদ্ধা বললো
এক নাম্বার প্রশ্ন আপনারা বলে থাকেন বেহেশতে এত আহার করা হবে তবু পায়খানা-প্রস্রাবের প্রয়োজন হবে না।
দুই নাম্বার প্রশ্ন: বেহেশতে এমন একটি বৃক্ষ থাকবে যার শাখা-প্রশাখা বেহেশতের প্রতিটি ঘরের উপর বিস্তার করবে।
তিন নাম্বার প্রশ্ন: বেহেশতের নিয়ামত যতই খাওয়া হবে তার ঘাটতি হবে না এগুলি তো অসম্ভব কথা।
এক নাম্বার প্রশ্নের উত্তর: সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে তখন সে মায়ের রক্ত আহার করে কিন্তু তার পায়খানা-প্রস্রাবের প্রয়োজন হয় না।
দ্বিতীয় নাম্বার প্রশ্নের উত্তর: পৃথিবীতে সূর্য মাত্র একটা কিন্তু তার আলো সকল ঘরের উপরে পরে।
তৃতীয় নাম্বার প্রশ্নের উত্তর হলো কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করে, শ্রবণ করে এবং তার দাঁড়াও উপকার পায়, কিন্তু তার স্বাদ ও মাধুর্য কমে না। অতঃপর বললেন আমি তোমার তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। এখন তুমি আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। বৃদ্ধ বললো, প্রশ্ন করুন। জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) বললেন, বেহেশতের দরজার উপর কি লেখা রয়েছে?
বৃদ্ধা শুনে চুপ করে রইলো। সব ঈহুদীগণ বলে উঠলো আপনি আমাদের ধর্মীয় নেতা আপনার তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তার একটি প্রশ্নের উত্তর আপনি কেন দিচ্ছেন না! বৃদ্ধ বললো আমি যে উত্তর দেবো তোমরা যদি তা মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করো তবে আমি উত্তর দিব। তারা সকলেই অঙ্গীকার করল আমরা অবশ্যই মেনে নেব।
বৃদ্ধা বললো বেহেশতের দরজার উপর লেখা আছে, ”লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ” এই কথা শুনে সকল ইহুদি কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেল এবং ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করল। সুবাহানাল্লাহ
ড্রাগন ফল একটি পুষ্টি-ঘন সুপারফুড যা এর উচ্চ ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের কারণে অসংখ্য স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে, তবে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
ড্রাগন ফল (বা পিটায়া) ক্যালোরি কম এবং এতে ভিটামিন, মিনারেল এবং বিটালেইন, হাইড্রোক্সিসিনামেট এবং ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
উপকারিতা
বিবরণ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ফ্রি র্যাডিক্যাল দ্বারা কোষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
হজম স্বাস্থ্য
প্রচুর পরিমাণে ফাইবার (প্রতি ১০০ গ্রাম পরিবেশনে প্রায় ৩ গ্রাম) প্রিবায়োটিক হিসাবে কাজ করে, স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া (যেমন ল্যাকটোব্যাসিলাই এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়া) বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং নিয়মিত হজমে সাহায্য করে।
হৃদরোগের স্বাস্থ্য
বীজে পাওয়া ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড “খারাপ” (এলডিএল) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ
ফাইবার চিনির শোষণ ধীর করে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে, যা পরিমিতভাবে সেবন করলে প্রিডায়াবেটিস এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপকারী হতে পারে।
ত্বক এবং হাড়ের স্বাস্থ্য
ভিটামিন সি সুস্থ ত্বকের জন্য কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যখন ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম শক্তিশালী হাড় এবং দাঁতকে সমর্থন করে।
অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য
ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির প্রদাহ-বিরোধী প্রভাব রয়েছে যা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সম্ভাব্য ক্ষতি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
যদিও এটি বেশিরভাগ মানুষের জন্য খাদ্য হিসাবে সাধারণত নিরাপদ, তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে, বেশিরভাগই অতিরিক্ত ব্যবহার বা বিদ্যমান সংবেদনশীলতার কারণে।
হজমের সমস্যা: প্রচুর পরিমাণে খাওয়ার ফলে উচ্চ ফাইবার এবং জলের পরিমাণের কারণে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে।
অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া: যদিও বিরল, কিছু ব্যক্তির অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে যেমন চুলকানি, আমবাত, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া, বা এমনকি অ্যানাফিল্যাক্সিস।
ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া: রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা সামান্য কমিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনার কারণে, সম্পর্কিত ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের তাদের মাত্রা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত বা একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
প্রস্রাব/মলের লালচে বিবর্ণতা: লাল ড্রাগন ফলের বিটালেইন রঙ্গকগুলি প্রস্রাব এবং মলের একটি অস্থায়ী, ক্ষতিকারক লালচে বা গোলাপী বিবর্ণতা সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রায়শই রক্তপাত বলে ভুল করা হয়।
অস্বীকৃতি: এই তথ্যটি আপনার ডাক্তার বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শের পরিপূরক করার উদ্দেশ্যে, প্রতিস্থাপনের জন্য নয় এবং এটি সমস্ত সম্ভাব্য ব্যবহার, সতর্কতা, মিথস্ক্রিয়া বা প্রতিকূল প্রভাবগুলিকে কভার করার উদ্দেশ্যে নয়।
প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ নির্যাস নিয়ে চলমান গবেষণায় ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে লেমনগ্রাস এবং ড্যান্ডেলিয়ন মূলের নির্যাস ক্যানসার কোষ ধ্বংসে কেমোথেরাপির চেয়েও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
মহামারি বিশেষজ্ঞ নিকোলাস হুলশার একটি গবেষণার বরাত দিয়ে জানান, লিম্ফোমা ক্যানসার আক্রান্ত ইঁদুরের ওপর লেমনগ্রাসের নির্যাস প্রয়োগ করে মাত্র ১৫ দিনে টিউমারের আকার ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এই চিকিৎসায় কোনো বিষক্রিয়া বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
বিজ্ঞানীদের মতে, লেমনগ্রাসের নির্যাস শরীরের সুস্থ কোষগুলোকে অক্ষত রেখে কেবল ক্যানসার কোষগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এটি মূলত ‘অ্যাপোপটোসিস’ বা কোষের পরিকল্পিত মৃত্যু ঘটানোর মাধ্যমে কাজ করে। এই প্রক্রিয়ায় টিউমার কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয় এবং কোষের শক্তি উৎপাদনকারী কেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া অচল হয়ে পড়ে, ফলে টিউমার কোষগুলো মারা যায়।
লিম্ফোমা এবং লিউকেমিয়ার মতো কঠিন ক্যানসার কোষের ক্ষেত্রেও এই উদ্ভিজ্জ নির্যাস অত্যন্ত কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া ড্যান্ডেলিয়ন মূলের নির্যাস নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি কোলন ক্যানসারের টিউমার বৃদ্ধিতে ৯০ শতাংশের বেশি বাধা দিতে সক্ষম।
লেমনগ্রাসে থাকা সাইট্রাল এবং বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল উপাদান কেবল ক্যানসার নয়, বরং উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এশিয় দেশগুলোতে লেমনগ্রাস সূপ বা রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর ঔষধি গুণাগুণ এখন বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের নজর কাড়ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, লেমনগ্রাস চা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কার্যকর এবং এটি রক্তনালীকে শিথিল করতে সাহায্য করে। বর্তমানে প্রাক-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে থাকা এই গবেষণাগুলো উদ্ভিজ্জ এই উপাদানটির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছে।
গবেষকরা বলছেন, সাধারণ কেমোথেরাপি যেখানে ক্যানসার কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষের ক্ষতি করে এবং শরীরে বিষক্রিয়া ছড়ায়, সেখানে লেমনগ্রাস বা ড্যান্ডেলিয়নের মতো সহজলভ্য উদ্ভিদ কোনো ক্ষতি ছাড়াই ক্যানসার কোষ ধ্বংস করছে।
যদিও এখনও মানুষের ওপর এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা চূড়ান্ত পরীক্ষা বাকি রয়েছে, তবে প্রাথমিক ফলাফলগুলো ক্যানসার চিকিৎসায় এক বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখন সাশ্রয়ী এবং বিষক্রিয়ামুক্ত এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলোকে মূলধারার ক্যানসার চিকিৎসায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছেন।
ইরানে অর্থনৈতিক সংকট, দেশটির মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা কর্মসূচি দিয়ে দেশটিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সহিংস বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়, মসজিদসহ নানা স্থানে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালায়।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআরএনজিও) গতকাল এ তথ্য জানায়। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ১৮ বছরের কম বয়সি। আন্দোলন শুরুর পর থেকে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিহত হন নিরাপত্তাবাহিনীর শতাধিক সদস্য।
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে, পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। এর মধ্যে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ জনতা। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও প্রেসটিভির।
গতকাল সোমবার সরকারের ডাকে রাজধানী তেহরানসহ বেশিরভাগ প্রদেশে স্থানীয় সময় দুপুরে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। কিছু প্রদেশে মানুষ সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নামেন সকাল থেকেই। কর্মকর্তারা দেশব্যাপী জনতার এই সমর্থনকে শত্রুর ষড়যন্ত্রের মুখে ঐক্য ও সংহতির অকাট্য প্রমাণ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
উত্তেজনার মধ্যে তেহরান-ওয়াশিংটন বাগ্যুদ্ধ থেমে নেই। ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গতকাল তেহরানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিদেশি কূটনীতিকদের বলেন, সপ্তাহান্তে সহিংসতা বেড়েছে কিন্তু পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, দেশব্যাপী বিক্ষোভ সহিংস ও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করতে পারেন।
কঠিন এই পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, সংলাপের জন্যও প্রস্তুত।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কয়েকদিন ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করা হয় ইরানজুড়ে। ধীরে ধীরে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন আরাগচি। তিনি জানান, ইন্টারনেট পরিষেবা শিগগিরই চালু করা হবে এবং সরকার নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে অগ্রগতি করছে।
বিক্ষোভের তৃতীয় সপ্তাহে এসে ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। সম্প্রতি তিনি তেহরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, তার হাতে খুব শক্তিশালী বিকল্প রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগের পথ এখনো খোলা আছে।
বিক্ষোভকারীদের ওপর যেন বলপ্রয়োগ করা না হয় সেজন্য জার্মানি, ফিনল্যান্ড, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ ইরানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলছে, যদি প্রয়োজন হয় ইরানের ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
ইইউর মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের পর আমরা নতুন, আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত।
বর্তমানে যদিও পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ তেহরানের ওপর নানা অজুহাতে শত শত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।
তীব্র বিক্ষোভে বিপর্যস্ত ইরানের সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব একটা সমর্থন পাচ্ছে না। এ অবস্থায় তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে, তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, আমরা সর্বদা অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছি এবং ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করেছি যে সমস্ত জাতির সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত হওয়া উচিত। আমরা সকল পক্ষকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আরও বেশি কিছু করার আহ্বান জানাই।
বিক্ষোভে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি। তাদের তথ্য অনুসারে, ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ১৮৬টি শহর এবং ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে ৪৯৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। এছাড়া কমপক্ষে ১০ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দেশের গুটিকয় তারকার ফেসবুকে অনুসারী কোটির মতো। এর মধ্যে একজন ছিলেন তাহসান খান। তিনি কাজের বাইরে ফেসবুক পেজ কখনোই ব্যবহার করতেন না। গত বছর সেপ্টেম্বরে সেই ফেসবুক পেজ ও ইনস্টাগ্রাম হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেন। এটা নিয়ে ভক্তদের নানা মত। অনেকেই বলছেন, তাহসান বিচ্ছেদের কারণেই ফেসবুক থেকে দূরে সরে যান। এটা নিয়ে অবশ্য তাহসান কখনোই কোনো বক্তব্য দেননি।
কেন ফেসবুক ছেড়েছিলেন
তাহসান খান দীর্ঘদিন ধরেই ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে দোটানায় ছিলেন। তাঁকে গত দুই বছরে খুব একটা সরব দেখা যায়নি। কখনো মাসে দু–একটি করে স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে। দিয়েছেন কাজের খবর। অবশেষে গত বছর তিনি একেবারেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে যান। এ সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন তো ফেসবুক ব্যবহার করলাম। এটা এমন কিছু না ব্যবহার করতেই হবে। এখন মনে হচ্ছে, এটা হয়তো আমার জন্য ভালো কিছু না। আমি হয়তো দু–একটি কারণে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারতাম। বিভিন্ন সময় ফেসবুকে আমাদের নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়, মিথ্যা ঘটনা ছড়ায়। এর আগে এক হাসপাতালে গেলাম একজন অভিনন্দন জানাচ্ছেন, আমি নাকি বাবা হয়েছি। মিথ্যা, ভুয়া এগুলো নিয়ে হয়তো আমি ফেসবুকে লিখতে পারতাম, ঘটনা সত্য না, এটা আমি না। কিন্তু এটা তো আমার কাজ নয়। অনেক সময় এটা একধরনের মেন্টাল ট্রমার মধ্যে আমাদের নিয়ে যায়।’
সর্বশেষ ফেসবুক পোস্ট গত বছর ছিল তাহসান খানের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাঁর ক্যারিয়ার ২৫ বছরে পা দেয়। সংগীতজীবনের বিশেষ মুহূর্ত উদ্যাপন করতে অস্ট্রেলিয়া ট্যুর দেন। এ খবর তিনি ফেসবুকে জানান। এটাই ছিল তাঁর শেষ ফেসবুক পোস্ট। এর সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের পরে কোনো অভিযোগ, অভিমান ছিল কি না, কেন গান ছেড়েছিলেন, সেটা অবশ্য তাহসান কখনোই প্রকাশ করেননি। গত বছর সেপ্টেম্বরে দেশটির পাঁচটি শহরে কনসার্ট করে ‘তাহসান অ্যান্ড দ্য ব্যান্ড’। এর মধ্যেই সেপ্টেম্বরে তিনি একটি কনসার্টে গিয়ে হঠাৎ করে ভক্তদের মধ্যে ঘোষণা দেন এই ট্যুরই হবে তাঁর সংগীত ক্যারিয়ারের শেষ স্মৃতি। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর গান গাওয়ার ফাঁকে তাহসান বলেন, ‘অনেক জায়গায় লেখা হচ্ছে, এটা আমার শেষ কনসার্ট। শেষ কনসার্ট না, শেষ ট্যুর। আস্তে আস্তে সংগীতজীবনের হয়তো ইতি টানব। এটা ন্যাচারাল।’
গান ছাড়া সিদ্ধান্ত কি হঠাৎ গান ছাড়ার ঘোষণার আট মাস আগের কথা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর। সে সময়ে আলোচনায় আসে তাহসানের নতুন গান ‘ভুলে যাব’। প্রথমবারের মতো হলিউডে গানের শুটিং করেছিলেন এই গায়ক ও অভিনেতা। পাশাপাশি ১২টি নতুন গান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বাংলা গান নিয়ে আশার কথা জানিয়ে তাহসান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমরা বাংলা নিয়ে একটা গণ্ডির মধ্যেই রয়ে গেছি। আমরা বিশাল গানের দর্শক ধরতে পারছি না। লাতিন আমেরিকা, কোরিয়াসহ অনেক দেশ তাদের গানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে। শিল্পী হিসেবে আমরাও চাইলে বাংলা গানকে ছড়িয়ে দিতে পারি। সেই দায়বদ্ধতা নিয়েই এখন কাজ করছি।’ বাংলা গান নিয়ে যখন এগিয়ে যাওয়া কথা, তার মধ্যেই হঠাৎ গান ছেড়ে দেওয়া নিয়েও সেই সময় প্রশ্ন ওঠে। সেই সময় ভক্তরা এমন মন্তব্যও করেন, ‘কোনো অভিমানেই তাহসান গান থেকে দূরে রয়েছেন।’ ভক্তরা এমনটাও প্রত্যাশা করেছিলেন, ‘হয়তো তিনি অভিমান ভুলে আবার গানে ফিরবেন।’
একদা এক দূর গ্রামের ধারে একটি গাধা বাস করত। গাধাটি দেখতে একটু বোকাসোকা হলেও ছিল ভীষণ পরিশ্রমী। গ্রামের এক ব্যবসায়ী প্রতিদিন বাজারে মাল নিয়ে যাওয়ার জন্য এই গাধাটিকেই ব্যবহার করত।
ব্যবসায়ী প্রায়ই চিনি কিনে গাধার পিঠে বড় বড় বস্তা বেঁধে দূরের বাজারে নিয়ে যেত। গাধাটি নীরবে কষ্ট সহ্য করে সেই বোঝা বহন করত।
🧺 চিনির বোঝা ও নদীর ঘটনা
একদিন সকালে ব্যবসায়ী গাধার পিঠে আগের চেয়ে অনেক বেশি চিনির বস্তা চাপিয়ে দিল। বোঝা এত ভারী ছিল যে গাধার হাঁটতেই কষ্ট হচ্ছিল। পথে হাঁটতে হাঁটতে তারা একটি নদীর কাছে পৌঁছাল।
গাধার তখন খুব পিপাসা লেগেছিল। পানি খাওয়ার জন্য নদীর ধারে নামতেই হঠাৎ সে পিছলে পড়ে গেল
ঢপাং!
গাধা সোজা নদীর পানিতে পড়ে গেল। কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়াতেই সে টের পেল— তার পিঠের বোঝা অনেক হালকা হয়ে গেছে!
কারণ, চিনির বস্তা পানিতে ভিজে গলে গিয়েছিল। গাধা মনে মনে খুব খুশি হলো।
সে ভাবল,
“আরে বাহ! নদীতে পড়লে তো বোঝা হালকা হয়ে যায়! এটা তো দারুণ এক কৌশল!”
🧠 চালাকি শুরু
এরপর থেকে যখনই গাধার পিঠে চিনির বোঝা বাঁধা হতো, সে ইচ্ছে করেই নদীর কাছে গিয়ে হোঁচট খেত। পানিতে পড়লেই চিনি গলে যেত, আর বোঝা হালকা হয়ে যেত।
গাধা ভাবতে লাগল, সে খুব বুদ্ধিমান হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ী বিষয়টা লক্ষ করলেও কিছু বলত না। সে চুপচাপ সব দেখছিল।
☁️ তুলার বোঝা ও বড় ভুল
কিছুদিন পর ব্যবসায়ী অন্য বাজার থেকে তুলা কিনে আনল। এবার সে তুলার বড় বড় বস্তা গাধার পিঠে চাপাল। তুলা দেখতে বড় হলেও আসলে খুব হালকা—গাধার বিশেষ কষ্ট হচ্ছিল না।
কিন্তু নদী দেখেই গাধা আবার খুশি হয়ে উঠল।
সে মনে মনে ভাবল,
“এইবারও নদীতে পড়লে বোঝা আরও হালকা হয়ে যাবে!”
ভাবনা অনুযায়ী কাজ—গাধা নদীর মাঝখানে গিয়ে ইচ্ছে করে পড়ে গেল।
কিন্তু এবার ঘটল ভয়ংকর বিপরীত ঘটনা।
তুলা পানিতে ভিজে গেল, আর ভিজতেই তুলা হয়ে উঠল অনেক বেশি ভারী।
গাধা যতই উঠে দাঁড়াতে চাইলো, বোঝা ততই ভারী হতে লাগল।
পিঠে যেন পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে! গাধা অসহ্য কষ্টে পড়ল।
তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা!
📿 গল্পের শিক্ষা (ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিতে)
এই গল্প থেকে আমরা একটি গভীর শিক্ষা পাই—
গাধা বুঝতে পারেনি কেন চিনির বোঝা পানিতে হালকা হয় আর কেন তুলার বোঝা ভারী হয়। সে না বুঝেই আগের অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে চালাকি করতে গিয়েছিল।
ঠিক তেমনি আমরাও মানুষ হিসেবে অনেক সময় অল্প জ্ঞান নিয়ে বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেলি। অহংকার, লোভ কিংবা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আমাদের ভুল পথে ঠেলে দেয়।
📖 ইসলাম আমাদের শেখায়—
জ্ঞান ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
👉 যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা নেই, সে বিষয়ে ঝুঁকি নেবেন না।
👉 আর ঝুঁকি নিতে হলে জেনে-বুঝেই নিন।
👉 বুদ্ধির অহংকার অনেক সময় মানুষকে এমন বিপদে ফেলে, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন এবং অহংকার থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
আরও নিয়মিত ইসলামিক গল্প, দীনি শিক্ষা এবং দিনের কথা জানতে আমাদের ফেসবুকে অ্যাড থাকুন। আমরা প্রতিদিন নতুন কিছু শেয়ার করি।
বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সম্ভাব্য ২৬ সদস্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস। তাদের ভাষ্য, এই তালিকাটি এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির বর্তমান ভাবনা ও পরিকল্পনার প্রতিফলন এতে স্পষ্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কোয়াডের বড় অংশ আগের বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়দের নিয়েই গঠিত হতে পারে। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন কয়েকজন তরুণ ফুটবলার। রিপোর্টে গোলরক্ষক বিভাগে প্রথম পছন্দ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। জেরোনিমো রুলি থাকতে পারেন দ্বিতীয় গোল রক্ষক হিসেবে। ডিফেন্ডারদের মধ্যে রয়েছেন নাহুয়েল মোলিনা, গঞ্জালো মন্টিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্ডি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং নিকোলাস টাগলিয়াফিকো। মিডফিল্ডের সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছে রদ্রিগো ডি পল, লেয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং জিওভানি লো সেলসো। আক্রমণভাগের নিশ্চয়ই লিওনেল মেসির বিকল্প থাকবে না। তার সঙ্গে থাকতে পারেন লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গঞ্জালেজ এবং থিয়াগো আলমাদা। এই খেলোয়াড়দের অনেকেই তালিকায় প্রায় নিশ্চিত বলে উল্লেখ করেছে টিওয়াইসি স্পোর্টস। এদিকে, কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা স্কোয়াডের শেষ কয়েকটি জায়গার জন্য লড়াই করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওয়াল্টার বেনিতেজ, হুয়ান ফয়থ, লিওনার্দো বালের্দি, ফাকুন্দো মেদিনা, মার্কোস আকুনিয়া, ভালেন্তিন বার্কো ও এক্সেকিয়েল প্যালাসিওস। এ ছাড়া কয়েকজন তরুণ ফুটবলারকেও নজরে রাখা হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়, ইনজুরি, ফর্ম এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি নির্ধারিত সময়েই।
ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে ৯ কোটি মানুষের দেশটিতে রাজধানী তেহরানসহ কয়েক ডজন শহরে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন ও শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা দমে না গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান চাইছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্বনেতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন উদ্বেগের সঙ্গে তেহরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। সিআইএ’র সাবেক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম উশার এই সময়টিকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিক্ষোভের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মুদ্রার মানের চরম অবনতি। মার্কিন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৫০০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ইন্টারনেট ও টেলিফোন নেটওয়ার্ক প্রায় বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইলন মাস্কের স্টারলিংক পরিষেবার মাধ্যমে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ চালুর বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ইরানের এই টালমাটাল অবস্থা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ এবং ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর পর ইরানকেও হারালে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব মারাত্মকভাবে খর্ব হবে।
অন্যদিকে জ্বালানি বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যেই ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৩ ডলার ছাড়িয়েছে। ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।
অনেক আগে এক গ্রামে এক অতি দরিদ্র কিন্তু পরহেজগার কাঠুরিয়া বাস করতেন। তিনি প্রতিদিন বনে যেতেন কাঠ কাটতে এবং তা বিক্রি করে যা পেতেন, তা দিয়ে তাঁর সংসার চালাতেন। অভাব থাকলেও তিনি কখনো মিথ্যে বলতেন না বা কারও সাথে প্রতারণা করতেন না।
একদিন কাঠ কাটার সময় ভুলবশত তাঁর কুড়ালটি পাশের একটি গভীর নদীতে পড়ে গেল। কুড়ালটি ছিল তাঁর আয়ের একমাত্র মাধ্যম। কুড়ালটি হারিয়ে তিনি খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং নদীর তীরে বসে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লাগলেন, “হে আল্লাহ, তুমিই আমার একমাত্র সহায়। আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করো।”
হঠাৎ একজন বৃদ্ধ লোক (যিনি আসলে একজন ফেরেশতা ছিলেন মানুষের বেশে) তাঁর সামনে হাজির হলেন। বৃদ্ধটি জিজ্ঞেস করলেন, “বাবা, তুমি কাঁদছো কেন?” কাঠুরিয়া সব খুলে বললেন।
বৃদ্ধটি তখন নদীতে ডুব দিলেন এবং একটি সোনার কুড়াল তুলে এনে বললেন, “এটা কি তোমার কুড়াল?” কাঠুরিয়া বললেন, “না, এটা আমার নয়।”
বৃদ্ধটি আবার ডুব দিলেন এবং একটি রুপার কুড়াল নিয়ে এলেন। কাঠুরিয়া আবারও মাথা নেড়ে বললেন, “না, এটাও আমার নয়।”
কাঠুরিয়ার এমন সততা দেখে বৃদ্ধটি মুগ্ধ হলেন। তিনি কাঠুরিয়াকে বললেন, “তোমার সততার পুরস্কার হিসেবে আমি তোমাকে এই সোনা এবং রুপার কুড়াল দুটিও উপহার দিচ্ছি। আল্লাহ তোমার ওপর খুশি হয়েছেন।”
কাঠুরিয়া বাড়ি ফিরে অভাবমুক্ত হলেন এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন।
গল্পের শিক্ষা:
সততা সর্বোত্তম পন্থা: সাময়িক কষ্ট হলেও সততা মানুষকে স্থায়ী সম্মান ও সাফল্য দেয়।
আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল): বিপদে পড়লে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সাহায্য চাইলে তিনি অবশ্যই পথ দেখিয়ে দেন।
লোভ না করা: অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ না করলে আল্লাহ নিজ গুণে নেয়ামত বাড়িয়ে দেন।